নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপরে আলোচিত তিনটি পৃথক মামলার রায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আদালত। ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যা—এ তিন ধরনের অপরাধে জড়িত মোট ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত কক্ষে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, মামলার ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৩ সালের ১৪ মে রাতে জামালপুর শহরের হযরত শাহ জামাল (রঃ) মাজারের সামনে থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলার শুনানিতে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু এবং রুকুকে এক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত বুলবুল আহমেদের বাড়ি শহরের বেলটিয়া খুপিবাড়ি এলাকায় এবং কালাম ও রুকুর বাড়ি পাথালিয়া নাওভাঙা এলাকায় বলে জানা গেছে।
এছাড়াও একই ট্রাইব্যুনাল ইসলামপুর উপজেলার পচাবহলা এলাকার এক নারীকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আব্দুল হাই মন্ডল, মোঃ আক্কেল ও নায়েব আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বকশিগঞ্জ উপজেলার কিশোরী খোদেজা হত্যা মামলার রায়ে আদালত আলম মিয়া, মাহা আলম ও রাজু মিয়াকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। এই মামলাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত ছিল এবং রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রায় ঘোষণার সময় মোট ৪ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিবারও এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধ প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও জোর দেওয়া প্রয়োজন।।





