নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দাবাড়ি ইউনিয়নের সবুজপাড়া এলাকায় নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার স্থাপন করে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও প্রশাসন একটি ড্রেজার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজপাড়া এলাকার নদীর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল।
এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল এবং তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিশেষ করে নদীর পাশবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) – শাহ জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে রোববার একটি ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ড্রেজার পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি ড্রেজার মেশিন ও ব্যবহৃত পাইপ জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী মহল নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল।
এতে নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং অনেক কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তারা আরও জানান, প্রশাসনের এই অভিযানে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি আরও জানান, যারা এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন বরদাশত করা হবে না।
নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, জব্দকৃত ড্রেজার মেশিন ও পাইপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, এ ধরনের সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং নদীভাঙনসহ নানা পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।।





