নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জামালপুরপৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা খান—জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব।
জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সরাসরি জনগণের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যেই ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও নির্বাচনি উঠান বৈঠক।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ছনকান্দা হরিপুর নয়া বাজার এলাকায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন মঙ্গল এবং সঞ্চালনা করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ জাবেদ বিলাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সোবহান।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জামালপুর পৌরসভার পৌর মেয়র পদপ্রার্থী ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা খান।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আগ্রহ প্রমাণ করে—এটি কেবল একটি নির্বাচনি কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা, দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে।
বক্তব্যে মোঃ আব্দুস সোবহান বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই ধরনের উঠান বৈঠক জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতীক।
প্রধান আলোচক সোহেল রানা খান তাঁর বক্তব্যে বলেন,
আমরা এমন একটি নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি সেবা হবে সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায়। জনগণের মতামতই আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান রতন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকরামুল হোসেন মানিক,জেলা যুবদলের সদস্য মোঃ ইমরান কায়সার, মোঃ নুর ইসলাম কালা, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিউর রহমান শফিক, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ প্রমুখ।
উঠান বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল—সাধারণ মানুষের সরাসরি মতামত প্রকাশের সুযোগ।
একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সবচেয়ে জরুরি। আমরা চাই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান।
একজন গৃহিণী বলেন, নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। আমাদের কথাগুলো যেন গুরুত্ব পায়।
একজন তরুণ ভোটার মন্তব্য করেন, আমরা চাই আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পৌরসভা—যেখানে থাকবে কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনি আলোচনা সভা ও উঠান বৈঠক হয়ে উঠেছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক মিলনমেলা।
প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পরিকল্পনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও উন্নত জামালপুর গড়ার প্রত্যয় এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।।





