জামালপুরে সরকারি খাদ্য গুদামের চাল পাচারকালে র‍্যাবের অভিযান : ১৫ টন চালসহ ট্রাক জব্দ, চালক আটক

doinikjamalpurbarta

নিজস্ব প্রতিনিধি : জামালপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ চাল পাচারের সময় র‍্যাব-১৪ এর অভিযানে ১৫ টন চালসহ একটি ট্রাক জব্দ এবং চালক আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা আনুমানিক ২টার দিকে শহরের ডাকপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংহজানি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে প্রায় ১৫ টন চাল শেরপুর জেলার একটি অটো রাইস মিলে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪ জামালপুর কোম্পানির একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে চালককে আটক করে।

আটক চালকের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি সিংহজানি খাদ্য গুদাম থেকে চাল বোঝাই করে শেরপুরের ‘রিমি অটো রাইস মিল’-এ নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে চাল পরিবহনের বৈধ কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে সিংহজানি খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও পরিবহন কর্মকর্তা (এসএমও) ইসরাত আহমেদ বলেন, ” এ ধরনের কোনো চাল আমার গুদাম থেকে বের হয়নি। আমাদের কাছে সব কাগজপত্র ঠিকঠাক রয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

র‍্যাব-১৪ জামালপুর কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ১৫ টন সরকারি চালসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এসে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি চাল কালোবাজারে নেওয়া হচ্ছিল। জব্দকৃত চাল থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া : ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ডাকপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন,
“সরকার গরিব মানুষের জন্য যে চাল দেয়, সেই চাল যদি এভাবে পাচার হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী মো.উজ্জ্বল মিয়া বলেন,
“এটা কোনো ছোট ঘটনা না। এত বড় পরিমাণ চাল গুদাম থেকে বের হচ্ছে—এটা একা সম্ভব না। এর পেছনে বড় একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা।”

স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “আমরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্যের চাল পাই না, আর এখানে দেখি ট্রাকে করে চাল পাচার হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

জনমনে প্রশ্ন ও দাবি : এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এত বড় পরিমাণ চাল বের হলো? এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
এদিকে জব্দকৃত চাল ও ট্রাক সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।।

SHARES

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

আরো পোস্টঃ