অবৈধ অকটেন মজুদে আটক, পরে মুক্তি — রহস্য ঘিরে জনমনে প্রশ্ন, জবাব চাইছে এলাকাবাসী

doinikjamalpurbarta

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর : জামালপুর শহরের রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন পূর্ব মুকন্দবাড়ী এলাকায় অবৈধভাবে অকটেন মজুদ রাখার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে প্রশাসন। তবে পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও অসন্তোষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ওই এলাকা থেকে ছয়টি ব্যারেলে প্রায় ৩০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়।

অবৈধ জ্বালানি মজুদের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রত্যাশা ছিল এলাকাবাসীর।

কিন্তু অভিযানের পরপরই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর বলেন – পূর্ব মুকন্দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, “অবৈধভাবে অকটেন মজুদ রাখা তো ছোটখাটো অপরাধ না। তারপরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন—এটা আমরা বুঝতে পারছি না। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।”

আরেক বাসিন্দা শামসুন্নাহার বলেন – প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া – স্থানীয় এক শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “অবৈধ জ্বালানি মজুদ শুধু আইন ভঙ্গ নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য – এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি প্রশাসনের অভিযানের অংশ ছিল। বিষয়টি আমরা অবগত আছি। প্রয়োজনে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য – সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “অভিযানের সময় জব্দকৃত অকটেনের পরিমাণ সীমিত ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশ্ন রয়ে গেছে – তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ রাখার মতো স্পষ্ট অপরাধে শুধুমাত্র মুচলেকা কি যথেষ্ট শাস্তি? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা কারণ?

এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসী মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়।।

SHARES

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

আরো পোস্টঃ