মাসুদুর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি : জাল টাকা ও জাল টাকা ছাপানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীসহ জালিয়াত চক্রের সদস্য মোঃ মুর্শিদুল হক(৩৩)কে গ্রেফতার করেছে জামালপুর র্যাব-১৪।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর র্যাব ১৪ কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, র্যাব তাঁর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ,চোরাচালান, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধাবাবাহিকতায় আসন্ন ঈদ উল আজহা কে কেন্দ্র করে টাকা জালিয়াতিচক্র সহ বিভিন্ন প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করার জন্য র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এর গোয়েন্দা টিম সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টায় জামালপুর র্যাব ১৪ কোম্পানী কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ এর নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা শেরপুর জেলার সদর থানার ০৫ নং ওয়ার্ড চাপাতলী উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীত পার্শ্বে ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ মুর্শিদুল হক(৩৩) কে গ্রেফতার করে। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য তার নিকট জাল টাকা সহ জাল টাকা তৈরীর সামগ্রী থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ জাল টাকার বিপরীতে আসল ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার হেফাজত থেকে ৬,৮০০/-টাকাসহ রুমের মধ্যে বিশেষভাবে রক্ষিত জাল টাকা তৈরীর সামগ্রী ০১ টি মনিটর, ০৩ টি প্রিন্টার, ০১ টি পাওয়ার ক্যাবল ও ০১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করার পর জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, আসামি দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি করে শেরপুর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্যের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শেরপুর জেলার সদর থানায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহব্বান জানিয়েছেন মেজর লাবিদ আহমেদ।





