নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর : ছাত্ররাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন বিএনপি নেতা মো. গোলাম মোস্তফা মুকুল।
প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রসংগঠন থেকে উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতৃত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আসন্ন ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এবারও ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বর্তমানে গোলাম মোস্তফা মুকুল জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে সামনে রেখে দিগপাইত ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
ছাত্ররাজনীতি থেকে নেতৃত্বের পথে জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়নের তারারভিটা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান গোলাম মোস্তফা মুকুল। তিনি মরহুম তৈয়ব আলী মাস্টারের দ্বিতীয় ছেলে। ধনবাড়ী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
১৯৮৯ সালে ধনবাড়ী কলেজে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যান তিনি।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মুকুল। সে সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাজপথের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১-৯২ সালে ধনবাড়ী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাহিত্য ও মিলনায়তন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
১৯৯৪ সালে দিগপাইত বাসস্ট্যান্ড উপশহর এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। একই বছর জামালপুর সদর উপজেলা (দক্ষিণ) ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মুকুল।
সাংগঠনিক দায়িত্বে ধারাবাহিক পথচলা ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে জামালপুর সদর উপজেলা (দক্ষিণ) ছাত্রদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন গোলাম মোস্তফা মুকুল। একই বছর ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৬ সালে পুনরায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জামালপুর সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক এবং জেলা শাখার সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে আসার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে তিনি জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের নানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
দীর্ঘদিনের এই পথচলায় দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ভবিষ্যতেও সাংগঠনিক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন তিনি। নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রত্যাশা
গোলাম মোস্তফা মুকুলের রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচনী অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসন্ন ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মুকুল। তাঁর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে।
এ জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের কাছে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব।
দিগপাইতকে আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়
দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে দিগপাইত ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গোলাম মোস্তফা মুকুল। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী ইউনিয়ন গড়ে তোলা। স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনিয়নের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গোলাম মোস্তফা মুকুল বলেন, “আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারলে ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়নকে একটি মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত এবং আধুনিক উন্নত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মনোনয়নের প্রত্যাশা
১৯৮৯ সালে ধনবাড়ী কলেজে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক পথচলা থেকে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন—গোলাম মোস্তফা মুকুলের রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিবরণ।
ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে সংগঠনের নেতৃত্বে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবার সেই অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তাঁর লক্ষ্য, দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা এবং দিগপাইত ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সামনে এগোতে চান গোলাম মোস্তফা মুকুল। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে তাঁর এই প্রত্যাশা এখন বিএনপির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।।



