এই সময়ে কিভাবে কাটাবেন অর্থবহ সময়

চলমান বৈশ্বিক মহামারীতে অধিকাংশ মানুষেরই সময় কাটছে ঘরে বসেই। তবে এই সময়টুকু আপনি চাইলেই ব্যয় করতে পারেন অর্থবহ উপায়ে। চলুন জানি তেমন কিছু উপায়।

১. বেশী বেশী বই পড়ুন
দৈনন্দিন ব্যস্ততায় বই পড়ার সময় খুব একটা হয়না। কিন্তু এখন আপনার হাতে অফুরন্ত সময় আছে। বই পড়ুন। এতে আপনার সবচেয়ে ভালো সময় কাটবে। বিশেষ করে ধর্মীয় বই আপনাকে এইসময় প্রশান্তি এনে দিতে পারে।

২. শিশুদের সময় দিন
আপনার শিশুদের সময় দিন। তাদেরকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে নানা ধরণের বিষয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। তাদের সাথে নানা ধরণের মজার খেলায় সময় পার করুন। সাথে বাচ্চাদের সাথে আপনার দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করুন। এতে যেমন আপনার সময় ভালো কাটবে, তেমনি শিশুদের মানসিক বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

৩. পারিবারিক বৈঠক করুন
অবসর সময়টাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বৈঠকে মিলিত হোন। সবার সুবিধা-অসুবিধা, ভালোলাগা-খারাপলাগা নিয়ে মত বিনিময় করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন সুদৃড় হবে।

৪. ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেন
এই সময়টাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেন। বইপড়া প্রতিযোগিতা সহ নানা ধরনের বৈচিত্রময় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ঘরকে নির্মল বিনোদনের জায়গা হিসেবে প্রস্তুত করতে পারেন।
৫. প্রতিবেশীর খবর নিন

দুর্যোগকালীন সময়ে ঘর থেকে বের না হলেও বিকল্প উপায়ে প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর রাখুন। প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। এটি আপনার হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেবে।

৬. ঘরে কিংবা ছাদে বাগান করুন
ঘরোয়া বাগান করার শখ অনেকের থাকলেও সময় থাকেনা। কিন্তু এখন এই সময়টিতে সেই কাজটিই অনায়াসেই করতে পারেন। ঘরে কিংবা ছাদে বাগান তৈরি কিংবা বাগানের পরিচর্যায় একটি ভালো সময় কাটতে পারে আপনার ।

৭. ঘরের কাজে সহায়তা করুন
ঘরের কাজে প্রত্যেকে প্রত্যেককে সহায়তা করুন। পুরষ সদস্যরাও প্রয়োজনে কাপড় ধোয়া কিংবা রান্নার কাজে কিছুটা সময় রান্নাঘরে দিতে পারেন। রান্নাটাও শিখে নিতে পারেন এই সুযোগে!

৮. ইন্টারনেটে দারুন কিছু দেখুন
সময় কাটানোর আরেকটি মাধ্যম হতে পারে ইন্টারনেট। তবে সতর্কতার সাথে শুধুই ইতিবাচক কন্টেন্টগুলো দেখার চেষ্টা করুন। নানা ধরনের টিউটোরিয়াল দেখে ঘরোয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজে নিজে কিছু বানানোর চেষ্টা করতে পারেন। শিখতে পারেন হস্তশিল্প কিংবা ছোট ছোট নানা ধরণের কারিগরি বিষয়। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার খোঁজ-খবর রাখুন। তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় খুব বেশী সময় না পার করতে। কারণ ইন্টারনেটের নানা কন্টেন্টের কারণে মানসিক প্রশান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। এই সময় যা এড়িয়ে চলাই ভালো।

সবশেষে নিজের যত্ন নিন। পরিচ্ছন্ন থাকুন, দৃঢ় মনোবল নিয়ে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করুন। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন বেশী বেশী যাতে এই দুর্যোগ থেকে সবাইকে ভালো রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.