মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মোসলেমাবাদ গ্রামে বিশ্ব প্রবীণ দিবস ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল ৫ অক্টোবর বিকেলে মোসলেমাবাদ গ্রামের এফ. এম. কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক, লেখক ও সমাজকর্মী জি বি এম রুবেল আহম্মেদের উদ্যোগে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মোসলেমাবাদ গ্রামের পাঁচজন গুণী প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং পাঁচজন গুণী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ মোট ১০ জন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পাওয়া গুণী প্রবীণ ব্যক্তিত্বরা হলেন—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জলিল (মরণোত্তর), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সমাজসেবক আসাদুল্লাহীল গালিব, কবি ও লেখক নান্নু পারভেজ, নাট্যকর্মী ও সমাজসেবক মাজহার বাবলু এবং গুণী ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক এলানুর রহমান।
অন্যদিকে গুণী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন—প্রধান শিক্ষক (অব.) আমিনুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক (অব.) আব্দুল হাই বুলু বি-এসসি (মরণোত্তর), সম্মানিত শিক্ষক (অব.) রুহুল আমিন টুনু, সম্মানিত শিক্ষক (অব.) আফজাল হোসেন খান এবং সম্মানিত শিক্ষক (অব.) মোছা. রেজিয়া খাতুন।
বিশিষ্ট লেখক ও সহকারী অধ্যাপক কামরুল আহসান সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও শিক্ষক রকিব লিটন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও লেখক মোকছেদুর রহমান বেলাল, আবৃত্তিকার আব্দুল আলিম রঞ্জু, ইসলামাবাদ ওয়াছিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম ভুট্টু এবং চারণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী লেলিন।
ভোর হলো সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লাঞ্জুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং এলাকার সুধীজন।
বক্তারা বলেন, প্রবীণ ব্যক্তিরা একটি সমাজের অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের ধারক। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অবদানকে স্মরণ করা এবং সম্মান জানানো নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার।
আয়োজকরা জানান, সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসা গুণী প্রবীণ ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মান জানানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের কর্ম ও অবদানের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে সমাজে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শিক্ষকদের প্রতি সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
মোসলেমাবাদ গ্রামে এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষক, সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজনদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।





