নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের বকশীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। হত্যা মামলার আসামি ও ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত নিজের ভাই নজরুলকে নির্দোষ দাবি করে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের ভেতরে তার বিরোধীদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘এখনো যারা ভালো হননি, দ্রুত ভালো হয়ে যান।

বকশীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার আয়োজিত আলোচনা সভায় মানিক সওদাগর এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

নজরুল ইসলাম সওদাগরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় তিনি উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী

লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তাকে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়।

২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন নজরুল। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপির সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও এর আগে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বকশীগঞ্জের খয়ের উদ্দিন মাদরাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে উপস্থিত হন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি নজরুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং থানায় স্মারকলিপি দেন।।

Leave a Reply