দেওয়ানগঞ্জ

দেওয়ানগঞ্জে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এনজিও উধাও

দেওয়ানগঞ্জে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র। ভুয়া এনজিও খুলে টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে গেছে প্রতারকচক্রটি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাউনিয়ার চর এলাকায়। ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ নামের এনজিওটির কথিত কর্মকর্তারা ডাংধরা ও চরআমখাওয়া ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের আবাসন ও পুষ্টি প্রকল্পের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দুই কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। এর পর সেই টাকা নিয়ে গত ২৪ জুন অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।

জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর থানার বড়াইডাঙ্গী ও শিবেরডাঙ্গী এলাকার অভিযুক্ত চার প্রতারক মাইদুল ইসলাম রনি, রেজাউল করিম রেজা, সাজু আহম্মেদ ও মো: কামরুজ্জামান গত জানুয়ারিতে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ নাম দিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে এনজিও হিসেবে বিভিন্ন প্রলোভনে টাকা তোলা শুরু করে।

তাদের মাঠ কর্মী পদে স্থানীয় ১২ জন মহিলা এবং একজন পুরুষকে চাকরিও দেয়। বেতন ধরা হয় সাত থেকে আট হাজার টাকা। এই ১৩ জন মাঠ কর্মীর মাধ্যমেই অসহায় দরিদ্র মানুষকে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

গত ২৪ জুন সোমবার মাঠকর্মী হারুনুর রশিদ দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ করেন। এ অভিযোগে উল্লেখ করা হয় এনজিও কর্মকর্তারা প্রথমে অত্র এলাকার তিনশ’ হতদরিদ্র পরিবারকে বিনামূল্যে একটি করে কম্বল, এক কেজি ময়দা, এক লিটার তেল দেয়। কিছুদিন পর ১৫০টি পরিবারকে ঘর দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ২৫০০টি পরিবারকে ১৮ হাজার ৭২০ টাকা করে পুষ্টিভাতা দেয়ার কথা বলে ২৫০০ টাকা করে মোট ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২৪০টি পরিবারকে ঘর দেয়ার কথা বলে ৪০ হাজার করে ৯৬ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ১০০টি পরিবারকে টিউবওয়েল ও স্যানিটারি টয়লেট দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা নেয়। এতে তাদের মোট দুই কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ওঠে। ওই টাকা নিয়ে তারা রাতারাতি পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মানোর জন্য এনজিও কর্মকর্তারা এদের মধ্যে চার-পাঁচজনকে ঘর বানিয়ে দিয়েছে।  স্থানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেন ভক্তসহ কয়েকজনকে ঘর, নিমাইমাড়ী এলাকার হাফিজ, মাখনের চর এলাকার জহুরুলসহ কয়েকজনকে শুধু ঘরের খাম আর কাঠ দিয়েছে। বাকি সবাইকে ঘর দিবে বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ওই এনজিওর বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন ইউপি সদস্য বখতিয়ার।

মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, আইডিই নামে এনজিওটির নামে তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে। তাদের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি সমাধান করতে আসেননি। এ ব্যাপারে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *