নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্র্যাক জামালপুরের উদ্যোগে পাওয়ার টিলার বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কৃষক ও ব্র্যাক কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বর্তমান সময়ের কৃষিকে আরও লাভজনক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই করে তুলছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে একদিকে যেমন শ্রম ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ব্র্যাকের এ উদ্যোগ কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচির আওতায় জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি গ্রামের পারুল বেগম (স্বামী: মোস্তাফিজুর রহমান), বারুয়ামারি গ্রামের রিতা আক্তার (স্বামী: চঞ্চল মিয়া), ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর গ্রামের মোছা. আছমা আক্তার (স্বামী: মো. শহিদ ফরাজি) এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ধাতুয়াকান্দা গ্রামের সাজেদা বেগম (স্বামী: আব্দুল করিম)-এর হাতে চারটি পাওয়ার টিলার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক জামালপুরের জেলা সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম, ডিভিশনাল সেক্টর স্পেশালিস্ট (সেন্ট্রাল-২) মোঃ রাশেদুজ্জামান, আঞ্চলিক হিসাব ব্যবস্থাপক এ.এস.এম. গোলাম কিবরিয়া, এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ হুমায়ুন কবির ও মোঃ জুয়েল মিয়া, এসডিইউ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (কৃষি ও বীমা) এ.এস.এম. মাহবুবুল আলম, শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ খাইরুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক (বিসিইউপি) মোঃ কামরুজ্জামানসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
পাওয়ার টিলারপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা ব্র্যাকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ সহায়তা তাদের কৃষিকাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও লাভজনক করে তুলবে। পাশাপাশি নিজ এলাকার অন্যান্য কৃষকদের সেবা প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠান শেষে পাওয়ার টিলারের সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ পরিচালনা বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং স্থানীয় কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।





