পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হলো তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা-২০২৬

doinikjamalpurbarta

জামালপুর প্রতিনিধি : “করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুর সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি এবং উপজেলা কৃষি অফিস, জামালপুর সদর যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন।

 

বিশেষ অতিথি ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক ফলচাষি, উদ্যোক্তা, কৃষক-কৃষাণী এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। কেউ যদি চারা না পান, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে চারা সরবরাহের চেষ্টা করবো।

কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।”

তিনি আরও বলেন, ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফলজ বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ফল চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী সফল ফলচাষি ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ফলচাষি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাহমুদুল হাসান রোমান (আম চাষ), দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মাদারগঞ্জ উপজেলার মো. শামীম রানা (কাঁঠাল চাষ) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন জামালপুর সদর উপজেলার মিজানুর রহমান (ড্রাগন ফল চাষ)।

অন্যদিকে উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে জামালপুর সদরের ইমরান মাশরুম চাষের মাধ্যমে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ফল ও কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য আরও বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তাকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফল সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম প্রদর্শিত হয়। মেলায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং ফল চাষ সম্প্রসারণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

SHARES

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

আরো পোস্টঃ