জামালপুরে সরকারি কলেজের শিক্ষক ক্লাস নেন বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে!

doinikjamalpurbarta

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেসরকারি ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। কলেজে ক্লাস বাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ানোর কারণে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থীরা, লঙ্ঘিত হচ্ছে সরকারি চাকরি বিধিমালা। এমনই অভিযোগ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে।

বাংলা বিভাগের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ইমরান হোসেন নিজ কলেজের কর্মঘন্টা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের ঐ শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডে একদিকে যেমন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে সরকারি চাকরি বিধিমালা।

জানা গেছে, ইমরান হোসেন যিনি আশেক মাহমুদ কলেজে কর্মরত, তিনি সপ্তাহে তিনদিন রবিবার সকাল ৯-১০, সোমবার ও বুধবার বেলা ১২-১টা পর্যন্ত শহরের ফৌজদারি মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্রক্ষপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পাঠদান করেন।

সরকারি কর্মচারী(আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনো লাভজনক কাজে বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠাতে নিযুক্ত হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। অনেক শিক্ষক কলেজের হাজিরা খাতায় সই করেই দ্রুত বেসরকারি কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তবে কেন এই প্রবণতা? অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেসরকারি কলেজগুলো সরকারি শিক্ষকদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ব্যবহার করে শিক্ষার্থী আকর্ষণ করে। বিনিময়ে শিক্ষকদের প্রতি মাস চুক্তিতে বড় অঙ্কের সম্মানী দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই সম্মানীর পরিমাণ তাদের মূল বেতনের চেয়েও বেশি হয়।

এ বিষয়ে ঐ বিশ^বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ে অন্য যেসকল শিক্ষক আছে তারা অনেকেই সরকারি কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি।

আমরা এটা বুঝতে পারি যেসব শিক্ষক সরকারি কলেজ থেকে আমাদের এখানে ক্লাস নিতে আসে তারা আমদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের থেকে ভালো। কিন্তু সরকারি কলেজ থেকে আসা শিক্ষক আর আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ব্যবহারে আকাশ আর মাটি সমান দূরত্ব।

বাইরে থেকে যারা আমাদের ক্লাস নিতে আসে তারা অনেক সময় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ বা প্রকাশ করতে আমাদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করে।
আশেক মাহমুদ কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষকরা অন্য একটি বেসরকারি কলেজে গিয়ে ক্লাস নেওয়ার আমাদের তারা তাদের সর্বোচ্চটা দেয় না।

কলেজ খোলা থাকলেও আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বা নির্দিষ্ট সময় তাদের থেকে পাইনা। এতে কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, কলেজ কর্র্তৃপক্ষের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আমাদের ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইমরান হোসেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ডাক্তাররা কি তাদের হাসপাতালের রোগী দেখা শেষে অন্য জায়গায় রোগী দেখে না? সরকারি কর্মচারী বিধিমালাতে শর্ত আছে সরকারি কর্মচারীরা অন্য কোন লাভজনক পেশায় যেতে পারবে না। এখন আপনারা যদি বলেন আমি মানছি না তাহলে তো অমান্যই করা হয়।

আমার কলেজ চলাকালীন সময় আমি অন্য কলেজে ক্লাস নেওয়ার সময় আমার কলেজের শিক্ষার্থী কোন কাজে আমার আছে এসে আমাকে নাও পেতে পারে। আপনি কি এসিল্যান্ড অফিসে জমি খারিজ করতে গিয়ে, এসিল্যান্ডকে পান? প্রতিটা মানুষেরি কাজ থাকে।

এ বিষয়ে ব্রক্ষপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার জাওয়াদুল হক বলেন, ইমরান হোসেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে তো চাকরি কারেন না। তিনি কতগুলো ক্লাস নিচ্ছেন সে অনুযারী টাকা পায়। টাকা পায় ঠিকি তবে এটা লাভজনক পেশা না। যদি ওনার কলেজে ক্লাস না থাকে তবে উনি এখানে ক্লাস নিতেই পারবে, পারবে না কেন?

এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: শওকত আলম মীর বলেন, আমার আগের অধ্যক্ষ উনাকে অনুমতি দিয়েছে কি না সেটা আমার জানা নেই। যেহেতু এখন নির্বাচনের ছুটি হয়ে গেছে।

কলেজ খুললে ইমরান হোসেন আসুক, তারপর সব কিছু শুনতে পারবো। তবে যদি উনি কলেজ থেকে অনুমতি না নেয় তাহলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

SHARES

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

আরো পোস্টঃ