জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর সদরের শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দিতে এক গৃহবধূকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দেয়াসহ স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তার স্ত্রী মিম নিখোঁজ আছেই বলে জানান উসমান গণী।
অভিযোগে জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার ২নং শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড বাদেচান্দি মোড় ও অনন্ত বাড়ি গ্রামে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতা মানিক মিয়া। গৃহবধূর স্বামী ওসমান গণি লক্ষীরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় চাকরী করেন।
এদিকে বাদেচান্দি মোড় এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী মীম।
এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. উসমান গণি। কিন্তু অভিযোগে অপহরণকারী মো. মানিক মিয়া ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ২ নং শরিফপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় সে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মীম এর স্বামী উসমান গণি এই প্রতিনিধিকে জানান, জীবিকার তাগিদে আমি ঢাকায় চাকরী করার সুবাদে শ্রমিকনেতা মানিক মিয়া আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে তার কথায় রাজি না হলে আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারন করে। বিষয়টি আমি জানতে পারলে ঢাকা থেকে এসে দেখি মানিক মিয়া আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত আমার স্ত্রীর কোন খোঁজখবর নাই। আমি এ ঘটনায় সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি। আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই এবং মানিক মিয়ার বিচার চাই।
জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। মানিক মিয়া যদি অভিযুক্ত প্রমাণিত হয় তাহলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক মিয়া জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে এ বিষয়ে গাম্য সালিশের কথা তিনি শিকার করেছেন।
জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।





