দুর্দান্ত মুশফিকে বাংলাদেশের অনন্য জয়

মানবজমিন: প্রথমবারের ২০০ রান করে জিতলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার  দেয়া ২১৫ রানের লক্ষ্য ২ বল আর পাঁচ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেল বাংলাদেশ। টানা হারের পর টি-২০তে জয়ের মুখ দেখলো বাংলাদেশ দল। গতবছর এ মাটেই শ্র্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের অসাধারণ ইনিংস জয় নিম্চিত করেছে। তবে ওপেনার লিটন দাস আর তামিম ইকবালের ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

তামিম ৪৭ আর লিটন দাস ৪৩ রান করেন। তবে দুজনই অল্পের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হলেও ক্যারিয়ারসেরা ৭২ রান করে দলকে জেতান মুশফিকুর রহীম। তিনি মাত্র ৩৫ বলে এ রান করেন চারটি ছক্কা আর পাঁচটি চারের মারে। ম্যাচসেরাও হন মুশফিক। ৬৫ টি-২০ ম্যাচে মাত্র তৃতীয় ফিফটি পেলেন তিনি। তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ৬৬ রান। জয়কে মুশফিক তার ছেলের জন্য উৎসর্গ করেন। বাংলাদেশের অনেক হারের কারণ থিসারা পেরেরার শেষ ওভারে চার বলে ৮ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ খেলায় এটি বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। আগের দুটি ছিল আগে ব্যাটিং করে।
এর আগে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৬৫ রান তাড়া  করে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটি সেই ১০ বছর আগে ২০০৭ বিম্বকাপে। জোহানেসবার্গে বাংলাদেশ সেই জয়টি পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৭৮ রান। বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো টি-২০তে ২০০ পেরোলো। এরর আগে ১৯৩ রান ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই।
এ জয়ের ফলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হলো। তবে রানগড়ে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে। আবার প্রত্যেক দল একে অপররের বিপক্ষে খেলবে।
২১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনারও দারুণ শুরু করেছেন। তামিম ইকবাল ও লিটন দাস ৪.১ ওভারে তুলে নেন ৫০ রান। এটি লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটি। সৌম্য সরকারের পরিবর্তে লিটনকে নামানো হয় ওপেনিংয়ে।
৫০ হলো না তামিমের
দশম ওভারেই দলের রান ১০০। তামিম ৫০ থেকে তিন রান দূরে। এরই মধ্যে দুর্র্র্র্র্র্বলচেতা শটে কট হলেন তামিম। ২৯ বলে এক ছক্কা আর পাঁচ চার মারেন তামিম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দারুণ উইকেট পেলেন থিসারা পেরেরা। ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৩।
দারুণ খেলছিলেন লিটন দাস। মার মার কাট কাট করে রান তুলে ভয় ধরিয়ে দেন লঙ্কানদের মনে। কিন্তু কপাল মন্দ মাত্র ১৯ বলে ৪৩ রান করে নুয়ান প্রদীপ ফার্নান্দোর বলে লেগবিফোর উইকেট হয়ে যান তিনি। ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৪ রান। ওয়ানডাউনে নামেন সৌম্য সরকার।
৬ বলে চাই ৯ রান
নুয়ান প্রদীপের ১৯তম ওভারে খেলায় ফিরলো শ্রীলঙ্কা। সাব্বিরকে ফিরিয়ে রানের চাকা আটকে গেল। তবে পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে মুশফিক ফের নিয়ন্ত্রণ নেন খেলার।
সাব্বির আউট যখন তখন ১০ বলে দরকার ১৮ রান। থিসারা পেরেরার সরাসরি থ্রোতে ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। ২ বলে কোন রান পাননি তিনি। মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
১২ বলে চাই ১৯ রান
মাহমুদুল্লাহ আউট, মুশফিকের ফিফটি। ১২ বলে বাংলাদেশের চাই ১৯ রান। বাংলাদেশ ১৯৬/৪। ২৪ বলে ৫০ করলেন মুশফিক। তিন ছক্কা আর চার চারে। ৬৫ টি-২০ ম্যাচে মাত্র তৃতীয় ফিফটি পেলেন তিনি। তবে ১৮তম ওভারে ১১ বলে ২০ রান করে ফিরে গেলেন মাহমুদুল্লাহ। দলের রান ১৯৩/৩। সাব্বির যুক্ত হলেন মুশফিকের সঙ্গে।
১৮ বলে চাই ২৭ রান
১৭তম ওভারে ১৩ রান পেল বাংলাদেশ। স্কোর ১৮৮/৩। ১৮ বলে জেতার জন্য চাই ২৭ রান। হাতে ৭ উইকেট। মুশফিক ২৩ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত।
২৪ বলে চাই ৪০ রান
১৬ ওভারে ১৭৫/৩। ২৪ বলে চাই আর ৪০ রান। থিসারা পেরেরার করা ১৬তম ওভারে ১৮ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ চার ও ছক্কা হাঁকান।
৩০ বলে চাই ৫৮ রান
১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৭ রান। ১৫তম ওভারে নুয়ান প্রদীপ ফার্নান্দোর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ২২ বলে ২৪ রান করা সৌম্য সরকার। মুশফিক আছেন ১৯ বলে ৩৬ রান করে।

বাংলাদেশের টার্গেট ২১৫
শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে নো-বলসহ শেষ ওভারে ১৫ রান দেন এ টাইগার পেসার। এতে ২১৪/৬ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে শ্রীলঙ্কা। মোস্তাফিজের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীমের গ্লাভসে ক্যাচ দেয়ার আগে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন শ্রীলঙ্কার ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান কুসাল পেরেরা। চলতি আসরে এটি তার টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক। ৪৮ বলের ইনিংসে কুসাল পেরেরা হাঁকান ৮টি চার ও দুৃটি ছক্কা। পরে রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন থিসারা পেরেরা।
১৩ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ পৌঁছে ১৪৪/১-এ। ১৪তম ওভারে বল নিজের হাতে তুলে নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আর ওভারে জোড়া আঘাত হানেন এ টাইগার অফস্পিনার। আর রিযাদ দুই উইকেট নেন সাব্বির রহমানের সঙ্গে ফিল্ডিং যুগলবন্দিতে। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে মাহমুদুল্লাহর ডেলিভারেিত সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেন লঙ্কান ওপেনার কুসাল মেন্ডিস। একই ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন দাসুন শানাকা। পরে তাসকিন আহমেদের বলে সাব্রি রহমান লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালের ক্যাচ লুফে নেন অসাধারণ দক্ষতায়। এতে ১৫তম ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫০/৪-এ।
বল হাতে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪.৩তম ওভারে লঙ্কান ওপেনার দানুশকা গুনাতিলাকাকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের এ কাটার মাস্টার। ৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬২/১-এ।  নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কলম্বোর রণসিংহ প্রেমাদাসা মাঠে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে শ্রীলঙ্কার মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ।  ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি  সিরিজ নিদাহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। আর ১৩৯ পুজি নিয়ে ওই ম্যাচে ৬ উইকেটে হার দেখে বাংলাদেশ। ‍

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + two =