একজন সেফু ও আমাদের মানসিক বিকার

হাল আমলে বাংলাদেশের আলোচিত চরিত্র সেফাতুল্লাহ সেফু। অভিনব কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা আর জঘন্যতম গালিগালাজ যাকে পরিচিতি এনে দিয়েছে দেশজুড়ে। সাম্প্রতিককালে সে ভয়াবহ ধর্মীয় অবমাননায় যুক্ত হয়েছে এবং সকলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছেন। তার শাস্তির দাবীর পাশাপাশি আসুন আমরা একটু আত্মসমালোচনাও করি।

বেশ কিছুদিন আগে পরিবারের সদস্যরা দাবী করেছিলেন, সেফাতউল্লাহ জটিল মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। এবং তার কুরুচিপূর্ণ, অসংলগ্ন কথাবার্তায় তারাও ভীষণ বিব্রত। অবশ্য সে যে মানসিক রোগী তা বুঝতে কারো বিবৃতির দরকার পড়ে না।

কিন্তু তারপরেও তার ভিডিওতে লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে! কিন্তু কে দেখছে ? কেন দেখছে? অস্বীকার করার তো উপায় নেই যে এগুলো আমরাই দেখি, আবার আমরাই ছড়িয়ে দিই! কিন্তু কেন? উত্তর হতে পারে, নেহায়েত কৌতুহলের বশে, হুজুগে কিংবা বিনোদনের জন্য। অথবা, আপনার-আমার প্রতিপক্ষ তার দ্বারা গালির শিকার হচ্ছে সেটা আপনাকে আনন্দিত করছে। যেটাই হোক যদি সেফুদা আপনাদের বিনোদনের উৎস হয়ে থাকে, তবে আপনার জন্য করুণা হচ্ছে এ কারণে যে, অশ্লীল গালিগালাজ কে আপনারা বিনোদনের উৎস বানিয়ে ফেলেছেন! আর যদি আপনার শত্রুপক্ষকে সে গালি দিয়ে ঘায়েল করছে এজন্য আনন্দিত হন কিংবা তার কথার দু’একটা জায়গায় একমত হয়ে মনে করে থাকেন যে, সে যেটা করছে সেটাই ঠিক তবে তবুও আপনার জন্য করুণা। কারণ এমন একজনকে মানসিকভাবে আপনার মানসিক নেতৃত্বের আসনে নিজের অজান্তেই বসিয়ে ফেলেছেন যে নেহায়েত একজন উন্মাদ!

আপনি তো একজন মানসিক রোগীর কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন না। পাগল, মূর্খ, ভণ্ডের মুখ থেকে কিছু না কিছু ভালো কথা বের হয় তার মানে এই না যে, আপনি তার ভক্ত বনে যাবেন। হয়তো ভাবতে পারেন সেতো ঠিক বলছে। ভাবতে পারেন কোন প্রতিবাদ না থাকার চেয়ে এর প্রতিবাদ ভালো। কিন্তু অশ্লীলতা, জঘন্যতার মাধ্যমে যদি ভালো কিছু আশা করেই থাকেন, তবে সেফুদার কথা ধরেই আপনাকে বলতে হয় ‘যা মদ খা, মানুষ হ’।

আপনি কি ভাবতে পারেন আপনার আমার সন্তান এইসব গালিগালাজ শিখবে? অন্যকে এইসব গালি দ্বারা ঘায়েল করবে কিংবা তারা নিজেরাই অন্য কারো গালিতে ঘায়েল হবে? কোনটাই কি ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসবে?

কিংবা ভাবতে পারেন এইসব জঘন্য, অশ্লীল গালিগালাজ সমাজে বহুল প্রচলিত হবে। সবাই তাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় গালির চর্চা করবে অনায়াসে। ভাবতে পারছেন?

অবক্ষয় একদিনে আসে না। আবার অবক্ষয়ের শিকার হওয়া একটা সমাজকেও একদিনে পরিবর্তন করা যায় না। কাজেই আসুন সময় থাকতেই সতর্ক হই। আসুন এইসব ছাইপাশগুলোকে পাত্তা না দেই। এইসব আবর্জনা কেনইবা আমাদের মনোযোগ কাড়বে? আমাদের নিজেদের জ্ঞান-গরীমা, সামাজিক অবস্থান কি এতই নিচে চলে গেছে?

আসুন  সবাই মিলে ভুল উদ্দেশ্যে, ভুল মানুষকে প্রমোট করা থেকে বিরত থাকি। নইলে দিনশেষে ক্ষতির শিকার হবে আমাদেরই প্রজন্ম।

উৎস- লেখা: চেঞ্জ টিভি, ছবি: এনটিভি ওয়েব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 3 =