নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?

এস.এম.ডি সোহেল রানা: একটা শিশু পৃথিবীতে জন্ম নেয় সমাজের কোন এক পরিবারে। সেই শিশুটি বেড়ে ওঠার সাথে সাথে সকল অধিকার নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সমাজে সকল স্থানে তার নিরাপত্তা অপরিহার্য। যুগের পরিবর্তনে ও উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের এই দেশ যেরকম ভাবে বদলে যাচ্ছে লজ্জার বিষয় হয়ে উঠছে। একটা সময় ছিল যে, টেলিভিশন চালু করলে বা সংবাদপত্রের দিকে চোখ রাখলে দেখা যেত, চারদিকে চুরি ডাকাতি ও লুটপাটের খবরের সংখ্যায় বেশি। দিন পরিবর্তন সাথে সাথে ইদানিং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় বা টেলিভিশনের পর্দায় প্রধান শিরোনাম হিসেবে দেখতে পাই ধর্ষণের খবর।

বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে এসেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে ১৫ পর্যন্ত এ সাড়ে ৪ মাসে ৩৪৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এর মধ্যে ৩৮ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ৩৮ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে, মানুষ রূপী পশুদের কাছে।

সমাজে যদি কিশোরী বা যুবতী মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে আমরা বলে থাকি, তার কোন না কোন দোষ আছে! কিন্তু যারা এই নিস্পাপ অবুঝ বয়সের তাদের কি দোষ ছিল?  যে সকল মানুষ রূপী পশুর কাছে নিজের পরিবার নিরাপদ কি? শিশুর পরিবারে পিতা মাতার পরেই সবচেয়ে কাছের মানুষ হলো তার শিক্ষক। শিশু তার শিক্ষকের কাছে থেকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা গ্রহন করে না,  সমাজে চলার জন্য কিভাবে চরিত্র গঠন করতে হবে, সেই সকল শিক্ষাও অর্জন করে। বলা হয়, পিতামাতার পরে শ্রদ্ধার পাত্র হলো শিক্ষক। তারা দেশের মানুষ গড়ার কারিগর। জাতির কাছে শিক্ষার্থীদের সু-নাগরিক হিসেবে উপহার দেওয়া শিক্ষকের একান্ত কাজ। কিন্তু ভয়ংকর হলেও দেখা যাচ্ছে যে, এই সমাজে জ্ঞানহীণ, চরিত্রহীণ শিক্ষকের আণাগোণা, যাদের দ্বারা শিক্ষার্থীরাও যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাহলে এই শিশুরা শিক্ষার স্থান থেকে কি পেল? শিশুরা বিদ্যালয়ে যায় শিক্ষা গ্রহন করার জন্য তাহলে এটাই কি শিক্ষা?

এই সমাজে পাল্লা দিয়ে সকল কিছুর মতোই বিবেকও এতটা অবনতির দিকে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষের কাতার থেকে মানুষ গড়ার কারিগরাও পশুর কাতারে ছিটকে পড়েছে। তাহলে শিশু কোথায় নিরাপদ? যারা এই অল্প বয়সে শিশুকিশোর বা তরুণীরা ধর্ষণের শিকার হয়,  আমরা শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কিভাবে যৌন নির্যাতনের বা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা কি এটা জানি যে তারা এই ধর্ষণের শিকারে ফলে সমাজে বেচে থাকার জন্য কত বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সমাজে এই সকল মেয়েদেরকে কোন দৃষ্টিতে দেখে?  ধর্ষণের ফলে ওই মেয়েটার জীবনের সকল স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়, পুরো পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে নেমে আছে অশান্তির ছায়া। ওই মেয়েটি সমাজে প্রতিটি ধাপ যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলতে হয়। এমনকি অনেকে লোকের অপবাদ সহ্য করতে না পেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

তাই সমাজের লোকদের উচিৎ অপবাদ নয়, ভালোবাসার মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখানো যে, জীবন এখানেই শেষ নয়। এই সকল বিষয়ে বাংলাদেশ আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলো ভালো ভূমিকা পালন করে আসছে তবুও আমি তাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের আরো কঠোর হতে হবে। এই সকল পশুদেরকে এমন ভাবে শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কোন ব্যাক্তি এই ধর্ষণের নামও না নিতে পারে মুখে। আমি বিচার বিভাগের কাছে একজন শিশু হিসেবে অনুরোধ করবো ধর্ষকদের বিচার কাজ দূত সম্পূর্ণ করা হোক। যেন তারা যে কোন কিছুর মূল্যেও বিচার থেকে ছাড় না পায়।  সে হোক আমার পরিবার বা সমাজের সদস্য। আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের সমাজের সকলেই সর্তক ও প্রতিবাদী হতে হবে। সমাজের সকলে এক সাথে জেগে ওঠে প্রতিবাদী হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে বন্ধ করতে হবে ধর্ষণ।  গড়ে তুলতে হবে একটি সোনার বাংলাদেশ।

(জামালপুর বার্তার সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + fifteen =