বকশীগঞ্জে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিএনপি অফিস ভাংচুরের অভিযোগ

বকশীগঞ্জে বিএনপি অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধা আনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিএনপির অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই ভাংচুর চালিয়েছে। তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।

প্রত্যাক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়,কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার লিফলেট বিতরণের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। সন্ধায় লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতির লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলছিলো। তখন হঠাৎ করে ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন নেতাকর্মী অতর্কিতাবে বিএনপি অফিসে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের চেয়ার,টেবিল,টেলিভিশন ভাংচুর করে। এই ঘটনায় মুহুর্তেই আতংক ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতারা সরে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল কাইয়ুম বলেন,আমি বিশেষ কাজে ঢাকায় আছি। তবে শুনেছি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিএনপির অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুজ্জামান মতিন বলেন,দলীয় কার্যালয়ে আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে আলোচনা সভা করছিলাম। হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের জুমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে তারা অফিসের সাইনবোর্ড,আসবাবপত্র,টিভি ভাংচুর করে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি আরো বলেন,চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা আবদুল কাইয়ুম ও জেলা বিএনপির সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুমান বিএনপি অফিস ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,বিএনপি নেতাকর্মীরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুটুক্তি করেছে। তাই আমরা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে অবস্থা নেই। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে। আমরা প্রতিহত করেছি মাত্র। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন বিএনপির কাছে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে। তারা যে কোনো সময় বকশীগঞ্জে বড় ধরনের নাশকতা করতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন,বিএনপি নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করতে চাইলে পুলিশ তাদের নিষেধ করে। এছাড়া লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা না করতে পুলিশ তাদের চাপের মধ্যে রেখেছিলো। এর পরেও ছাত্রলীগের সভাপতি জুমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের অতি উৎসাহী কিছু নেতাকর্মী এই ঘটনা ঘটায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =