টঙ্গীতে জামালপুর কমিউটারের মর্মান্তিক দূর্ঘটনার বিস্তারিত

টঙ্গীতে জামালপুর কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সূত্রে বিভিন্ন পত্রিকায় দাবী করা হয়েছে স্টেশন মাস্টারের ভুলকে । তবে টঙ্গী রেল স্টেশনের মাস্টার হালিমুজ্জামান দুর্ঘটনার কারন সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি, তিনি বলেছেন সেটি তদন্তের পর বলা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনের ২ নং লাইন দিয়ে আসছিল। আপ লাইন (ঢাকা থেকে যে লাইনে ট্রেন টঙ্গী যায়) থেকে ট্রেনটি লাইন ক্রস ওভার পয়েন্টস দিয়ে (দুই লাইনের মাঝে সংযোগকারী তৃতীয় লাইন) ডাউন লাইনে (টঙ্গী থেকে যে লাইনে ট্রেন ঢাকায় যায়) যাচ্ছিল। ইঞ্জিন আর সাতটি বগি ঠিকমতই পার হয়ে যায়। কিন্তু তখনই ডাউন লাইনের পয়েন্ট সরিয়ে নেওয়া হলে পেছনের বগিগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে। চারটি পেছনের বগি লাইনচ্যুত হয় এবং  তারপর গতির কারণে ওই অবস্থায় ট্রেনটি কয়েকশ গজ এগিয়ে যায়। এক পর্যায়ে একটি বগি কাত হয়ে যায়।

এসময় ছাদে থাকা লোকজন ঝাঁপিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন আবার কেউবা ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে যান পাশের চলন্ত ট্রেনের নিচে । এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় আরও একজনের। আহতদের টঙ্গী হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা বলছেন, আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে এই দুর্ঘটনার জন্য কমিউটার  ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনমতেই দায় এড়াতে পারে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা । কমিউটার ট্রেনে ভ্রমন করা মারুফ নামের একজন বলেন , ধারনক্ষমতার বাইরে যে পরিমাণ যাত্রী পরিবহন করা হয় কমিউটার ট্রেনে তাতে দূর্ঘটনা খুবই স্বাভাবিক । আর ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ থাকলেও ছাদেই দ্বিগুন যাত্রী বহন করা হয় ।

কামাল আহমেদ নামে আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, লাখ লাখ মানুষের জন্য দুই তিনটা ট্রেন দিয়ে যাত্রীদের বাধ্য করা হচ্ছে এমন অমানবিক ভ্রমনের । ছাদ, বাথরুম, বাফার যেখানেই এক চিলতে জায়গা আছে সেখানেই মানুষ উঠছে । পুলিশ, রেলওয়ে অথরিটি দেখেও না দেখার ভান করে আছে । আমাদের না আছে ভালো বাস সেবা না আছে ভালো ট্রেন সেবা ।

রেলওয়ে বিষয়ক একটি  ফেসবুক গ্রুপে জাহিদ হাসান জিসান টঙ্গী মধুমিতা আউটারে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যে একই জায়গায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি লিখেন, মাসখানেক আগে ৭৫৮ ডাউন দ্রুতযান এক্সপ্রেস লাইনচুত হয় টঙ্গীর মধুমিতা তে।ট্রেনটির এতটাই বাজে অবস্থায় ছিলো যে ট্রেনটি কে তার লাল সবুজের রেক পরিবর্তন করে সাদা রেকে চলতে হয়। এপ্রিল মাসের ১২ তারিখ ৭২৬ ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ।লোকো ছিলো ৬৫১৩।ট্রেনটির সাথে অটোরিক্সার সংঘর্ষ হয়।যে কারনে ব্যাপক বিলম্বে ট্রেনটি লোকো চেঞ্জ করে খুলনার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।চেঞ্জকৃত লোকো ছিলো ৬৫১২।  গতকালকের তিতাস কমিউটার আখাউড়া গামী ট্রেনটি লাইনচুত হয় টঙ্গীর মধুমিতা তে।এই লাইনচুতের জন্য গতকাল অনেক ট্রেন বিলম্বে চলাচল করেছিলো । আজকের ৫২ ডাউন জামালপুর কমিউটার ট্রেন। টঙ্গীর মধুমিতাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী।আজ ৫ জন যাত্রী নিহত এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত অবস্থায় রয়েছে। এই দুর্ঘটনার জন্য ঢাকার সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিলো ৪ ঘন্টা। আজকের এই দুর্ঘটনাও ঘটেছিলো টঙ্গীর মধুমিতাতে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামানকে প্রধান করে   গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি । এ কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =