কালের কন্ঠ- হাড় কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষের

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জামালপুর জেলার সবখানেই প্রচণ্ড শীত পড়েছে। গত তিনদিন ধরে দিনের বেলা রোদে দাঁড়িয়েও শীতের তীব্রতায় কাঁপছে মানুষ। তীব্র ঠাণ্ডায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইসলামপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এবং যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের অভাবী মানুষগুলো গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলাটি যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত হওয়ায় এ উপজেলায়  শীতের  তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। প্রায় সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত জামালপুর জেলা শহরসহ জেলার ৭টি উপজেলা ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে। তবে যমুনা চরাঞ্চল বাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চরাঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধদের নানা ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। তীব্র শীত মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড় না থাকায় নির্ঘুম রাত কাটে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের। কাঠ-খড়ের আগুনের উত্তাপই তাদের ভরসা। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতে দানশীলরা চরাঞ্চলে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করলেও এবছর এখনও তাদের দেখা মেলেনি। গেল বন্যায় আক্রান্ত যমুনার চরাঞ্চল খোলা আকাশের নিচে বাস করা মানুষগুলো পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। এদিকে ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অনেকেই পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা।

ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের যমুনার দুর্গম জোড়ডোবা, কাশারীডোবা, চরশিশুয়া ও প্রজাপতি চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচশত পরিবারের বাড়িঘর বিগত বন্যা মৌসুমে যমুনার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। এ ছাড়া আরো প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘর বন্যার তীব্র স্রোতে ভেঙে যায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব পরিবারের অভাবী মানুষগুলো আজও তাদের বসতভিটা বাসযোগ্য করতে পারেনি। এরপর পেটের ভাত জুটিয়ে শীতের কাপড় কিনতে না পারায় তারা হাঁড় কাঁপানো শীতে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। জোড়ডোবা গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, এই চরের মানুষগুলো বিগত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই শীতের কবলে পড়েছে।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা গ্রামের আবেদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘এ বছর বানে আংগরে বাড়িঘর ভাইসা গেছে। ঠাণ্ডায় বাইত থাহন যায় না।’

চিনাডুলি ইউনিয়নের চরনন্দনের পাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়ায় নদীর ঠাণ্ডা বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। কোন কাম-কাজ করতে পারি না। অনেক সমস্যায় পড়ছি, ঠাণ্ডায় গরু বাছুরের জন্য ঘাসও কাটতে যেতে পারি না।

ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামের ছাত্তার বলেন, মেলাদিন পড়ে এমন শীত দেখলাম। বেকরা ঠাণ্ডায় হাঁটাচলাও করবের পাইনে। সারাদিন আগুনের কাছেই বসে থাহি।

একই গ্রামের শামসুন্নাহার বেগম বলেন, যে ঠাণ্ডা পড়ছে,আমরা নদী ভাঙ্গা মানুষ। আংগরে কিছু আনবের গেছে নদী পাড় হওয়ন নাগে। তাই যাবের পাইনে, কোন কিছুই পাইনে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শীর্তাত মানুষের মাঝে এ পর্যন্ত ৮হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এবারের তীব্র শীত নিবারনে চাহিদা অনেক বেশি। তবে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 2 =