একজন তারা মিয়ার কথা

নয়ন আসাদ ।।

দেওয়ানগঞ্জ এবং দেওয়ানগঞ্জের উত্তরাঞ্চলে সংবাদপত্রের সাথে যাদের পরিচয় আছে তাদের সবারই হয়তো পরিচয় আছে তারা মিয়ার সঙ্গে। প্রায় তিন দশক থেকে ঝড়, বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে দৈনিক ত্রিশ-চল্লিশ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালিয়ে পত্রিকা বিলি করা তারা মিয়ার সাইকেলের বেল তার হাতে আর বাঁজবেনা। কারন পৃথিবীর সাথে শেষ হয়ে গেছে তার সকল লেনা-দেনা।

সুদীর্ঘ সময় থেকে রোজ বিকালে তারা মিয়া হাজির হতেন সংবাদপত্র নিয়ে। যদিও সকালের পত্রিকা তারা মিয়া নিয়ে আসতে আসতে গড়িয়ে যেত বিকাল। কারন সাইকেল চালিয়ে সুদীর্ঘ পথে তিনি পত্রিকা বিলি করতেন। বিকালে দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন হাঁট-বাজারে মুরুব্বিরা অলস বসে থাকতেন তারা মিয়া আসবেন বলে। কখনো দেরী হয়ে গেলে তারা বিরক্তি ঝাড়তেন তারা মিয়ার উপর। কিন্তু তারা মিয়াকে কখনো বিরক্ত হতে দেখা যেতনা।

প্রায় এক দশক আগের স্মৃতি থেকে বলছি, তখনো স্যাটেলাইট অ্যান্টেনার তেমন প্রচলন ঘটেনি কিংবা ফেসবুক বা অনলাইন সংবাদও হয়নি তেমন জনপ্রিয়। তখন বাজারের সব মানুষ অপেক্ষায় থাকতেন কখন তারা মিয়ার দেখা মিলবে। কখন হাতে পত্রিকা আসবে। বিকালের চায়ের সাথে পত্রিকা না হলে তখন যেন কি এক বিশাল অতৃপ্তি থেকে যেত।

একজন তারা মিয়া সংবাদপত্রকে ভালোবাসতেন। আমৃত্যু তার কেটে গেছে পত্রিকার সাথে। চাইলেই হয়তো এর চেয়ে কম পরিশ্রম করে আরো ভালো আয় করতে পারতেন। কিন্তু সম্ভবত একমাত্র পত্রিকার সাথে ভালোবাসাই হয়তো তাকে আমৃত্যু এ পেশায় রেখেছিলো। খুবই স্বল্পভাষী, সহজ-সরল, একদম নিরীহ গোছের মানুষটি আজ আর পৃথিবীতে নেই। মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন তার জন্য এই প্রার্থনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *