সানন্দবাড়ী বাজারে দোকান মালিকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

তারেক মাহমুদ ।।

জামালপুর জেলার বৃহত্তম ও প্রায় কোটি টাকা ইজারা মুল্যের হাট- সানন্দবাড়ী বাজারের ৩০০ শতাধিক দোকান অবশেষে ১২ ঘন্টা পর গতকাল মঙ্গলবার বিকালে খুলেছে দোকান মালিক সমিতি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বনিক সমিতির সাথে ফলোপ্রসু আলোচনার পর কিছু শর্ত সাপেক্ষে দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে।

দোকানের সরকারি লাইসেন্স নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস থেকে স্থানীয় দোকান মালিক, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের সাথে মতবিরোধ চলে আসছে এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে আনুমানিক ৫ টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ আকস্মিক সানন্দবাড়ী বাজার পরিদর্শনে গেলে সেখানকার দোকান মালিক সহ স্থানীয় কিছু দোকানি তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে এ নিয়ে কিছু তিক্ততার সৃষ্টি হলে দোকান মালিক সমিতি সন্ধ্যার পরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং সমাবেশে তারা অনিদির্ষ্টকালের জন্য প্রায় তিন শতাধিক দোকানপাট বন্ধের ঘোষণা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকান মালিক অভিযোগ করেন, আমাদের প্রতি জুলুম করা হচ্ছে। দোকান মালিকদের দাবী তাদের কাছে কয়েক মাস পূর্বে এক তহসিলদার নামে বেনামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এর বিনিময়ে কোন কাগজপত্র দেয়নি। সরকারি ঘরে দেওয়ার নামে কূপন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে দোকানের নামে চাঁদা। এরই ধারাবাহিকতায় সেই ভূমি সহকারিকে অন্যত্র বদলিও করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ দীর্ঘ দিন থেকে তারা নিজেদের মত ব্যবসা করলেও কয়েক মাস থেকে লাইসেন্সের নামে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

তবে সানন্দবাড়ী হাটের ইজারাদার রেজাউল করিম লাভলু জানান, স্থানীয় কিছু নেতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া থেকে বিরত রেখে আন্দোলনের পাঁয়তারা করছে। সাধারণ দোকান মালিক এবং ব্যবসায়ীরা এসবের ভেতর নেই তারা শান্তিতে ব্যবসা করে খেতে চান। আজ ইউ এন ও সাহেবের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা সমঝোতায় উপনীত হয়ে বিকেল ৫.৩০ মিনিটের দিকে সব দোকানপাট খুলে দিয়েছি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ আজ জানান, এই বাজারের ৩০০ দোকানের ভেতর মাত্র ১০০ টির লাইসেন্স আছে বাকি সব দোকান সরকারি খাস জমির উপর। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বার বার লাইসেন্স করার জন্য বলা হলেও তারা আমলে নেয়নি। এ নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল আজ সেটা উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। তারা মুচলেকা দিয়েছে যে আগামী এক মাসের ভেতর সবাই দোকানের লাইসেন্স নিবে, আমরাও সাধ্যমতো সব সহায়তা দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *