সেতু নেই, তাই নদী ভরাট করে রাস্তা !

প্রথম আলো: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চর সরিষাবাড়ী গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝারকাটা নদীতে সেতু নেই। এ কারণে এলাকার লোকজন মাটি ভরাট করে নদীর ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে শুকনো মৌসুমে যাতায়াত করে। বর্ষায় পারাপার চলে খেয়ানৌকায়।

জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, সেতুর দরকার আছে। কিন্তু নদীর গতিপথ বন্ধ করে রাস্তা বানানো ঠিক হয়নি। তিনি দ্রুত রাস্তাটি তুলে ফেলার দাবি করেন।

সাতপোয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু তাহের গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর ইউপির তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে নদীটির ভেতর দিয়ে পারাপারের জন্য রাস্তা করে দেওয়া হয়। নদীর গতিপথে বাধা দেওয়া ঠিক হয়নি। তবে এখানে দ্রুত একটি সেতু দরকার।

চর সরিষাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, নদীটির ওপর সেতু তৈরি করে দিয়ে ১২ গ্রামের মানুষের দাবি পূরণ করবেন।’

এলাকাবাসী ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝারকাটা নদীটি যমুনার শাখা। এটি সাতপোয়া ইউনিয়নের ঝালোপাড়া-ঘোড়ামারা সড়ক অতিক্রম করে চর সরিষাবাড়ী গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি পার হয়ে চর সরিষাবাড়ী, ছাতারিয়া, আদ্রা, শিশুয়া, ঘোড়ামারা, কুমারিয়াবাড়ি, শালগ্রাম, মাজনাবাড়ি, ছিন্ন, ব্রাহ্মণজানি, ছালাল ও শালদহ—এই ১২ গ্রামের মানুষ পারাপার হয়। ওই স্থানে একটি সেতুর দাবি তাদের অনেক দিনের। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও সেখানে সেতু হয়নি। বিভিন্ন সময় সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে ইউপির সহায়তায় শুকনো মৌসুমে মাটি কেটে নদীটির ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে যাতায়াত করে মানুষ। বর্ষাকালে উজানের ঢলে পানি বাড়লে খেয়ানৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।

চর সরিষাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই নদীর ওপর দিয়ে কষ্ট করে পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। সেতুটি হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে।’

ঘোড়ামারা গ্রামের মতিউর রহমান সরকার বলেন, ভোটের আগে যিনি আসেন তিনিই প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে সেতু নির্মাণ করে দেবেন। কত ভোট গেল সেতু আর হলো না।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. শফিউল্লা খন্দকার বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। তবু সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

স্থানীয় সাংসদ মামুনুর রশিদ জোয়ারদার গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করে দিতে চেষ্টা করব, যাতে এলাকাবাসীকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।’
Prothom Alo

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − nine =