শেলু আকন্দের উপর হামলা: রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের নিন্দা ও প্রতিবাদ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা। জামালপুর জেলার স্থানীয় সাংবাদিক শেলু আকন্দের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। জড়িত সকলের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতি বাংলায় অনুবাদ করেছেন জামালপুর বার্তার সম্পাদক নয়ন আসাদ।

শেলু আকন্দ দু’পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হাসপাতালে এখনো মৃত্যুশয্যায় কাতরাচ্ছেন যিনি গত ১৮ই ডিসেম্বর একদল সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হন।

তারা আমাকে লোহার বার দিয়ে পিটিয়ে, আমার দুই পা ভেঙ্গে দেয়। তারপর মৃত ভেবে ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর তীরে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে ও পুলিশকে খবর দেয়।” আরএসএফ কে বলছিলেন সাংবাদিক শেলু আকন্দ।

স্থানীয় দৈনিক পল্লী কন্ঠ প্রতিদিন ও বাংলা বাজার পত্রিকা নামক ম্যাগাজিনে কর্মরত শেলু আকন্দ জামালপুরের পৌর কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান ও তার পুত্র রুনু খানের কার্যক্রমের উপর নজর রাখছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি গত ২৬মে কালের কন্ঠের জামালপুর প্রতিনিধি মোস্তফা মঞ্জুর উপর হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ায়, শেলু আকন্দের উপর হামলার পেছনে থাকা হাসানুজ্জামান খান ও রাকিব খান তাকে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিল।
শেলু আকন্দের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ রাকিব খানকে গ্রেপ্তার করলেও তার পিতা হাসানুজ্জামান খানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ হামলার বিষয়ে, রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের এশিয়া প্যাসিফিক ডেস্কের প্রধান, ড্যানিয়েল বাস্টার্ড তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “শেলু আকন্দ যে হিংস্রতার শিকার হয়েছেন তা ভয়ঙ্কর এবং পুলিশের উচিত ছিল তাকে একজন সাংবাদিক এবং একজন সাক্ষী হিসেবে নিরাপত্তা দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই নির্মমতার পেছনে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবী করছি। এবং হাসানুজ্জামান খান যাতে রাজনৈতিক কারণে ছাড় না পায়। যেখানে বাংলাদেশে আইনের শাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আহত সাংবাদিক শেলু আকন্দকে তাৎক্ষণিক জামালপুর জেনারেল হাসাপাতালে নেওয়া হয়েছিল তারপর দ্রুত তাকে ঢাকার একটি হাসাপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ডাক্তাররা আরএসএফ’ কে জানিয়েছেন যে তার আরো সার্জারির দরকার হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ আরএসএফ এর প্রেস ফ্রিডম ইনডেস্কে ১৮০ টি দেশের মধ্যে ১৫০তম স্থানে রয়েছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় চার কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *