আসুন একটা কিছু করি

মাহবুব কবির মিলন , যুগ্ম সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার : কি একটি বিষয়ে বাচ্চা আমার হেসেই যাচ্ছে (একবার শুরু হলে আর থামে না)। আমি “সুবহানাল্লাহ” বলেই যাচ্ছি। কত সৌভাগ্যবান করেছেন আল্লাহ্‌ আমায়। বাচ্চার হাসি শুনতে পাচ্ছি এবং দেখতে পাচ্ছি। গতকাল ছোট্ট মেয়ে আল্ভিরা বাবার হাত ধরা অবস্থায় লিফটের ফাঁকে আটকে গিয়ে লিফট উপরে চলতে শুরু করলে আল্ভিরার মাথা উপরে ছাদে আটকে মারা যায়। লিফটে ছিল আল্ভিরার বাবা মা। আল্ভিরার মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে বের হওয়া গরম রক্তে ভিজে গিয়েছিল তার বাবা মায়ের শরীর। বাচ্চার রক্ত আর ঘিলু মাখা এক হতভাগা বাবা মা।

ব্লেড দিয়ে যৌনাঙ্গ চিঁড়ে নির্যাতিতা ছোট্ট বাচ্চা কোলে চিৎকার আর হাহাকার করে বিলাপ করছে যারা, তাঁরাও বাবা মা। সবুজের বুকে ধর্ষিতা মৃত বিউটির লাশের পাশে নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছেন যারা, তাঁরাও বাবা মা। ধর্ষণ করে রেল লাইনের উপর ফেলে রেলের চাকায় টুকরা টুকরা হয়ে পড়ে থাকা হতভাগিনীর দেহের টুকরাগুলো সামনে নিয়ে তাকিয়ে আছেন যারা, তাঁরাও বাবা মা।

শুনেছি বাবা মা’র লুকিয়ে রাখা এক যুবতী মেয়েকে মেয়ে সন্তান হবার জন্য তাঁকে যখন জীবন্ত কবর দেয়া হচ্ছিল, তখন সে উপর দিকে তাকিয়ে হাহাকার করে বলেছি, আমাদের রব বা সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থাকেন, তবে আপনি এমন একজন দূত বা ত্রাণকর্তা পাঠান যে মেয়েদের এই অভিশাপ থেকে বাচাবেন।
মহান প্রতিপালক সেই মেয়ের দোয়া কবুল করে পাঠিয়েছিলেন সেই মহামানব, আমাদের রসুল (সাঃ), যিনি সেই অন্ধকার যুগে আলোর বার্তা নিয়ে এসেছিলেন।

এখন আর কেউ আসবে না।

অঙ্গ ছেঁড়া নির্যাতিত বাচ্চাটিও হাহাকার করে উঠেছিল। বিউটিকে নির্যাতন করার পর যখন তাঁকে মেরে ফেলা হচ্ছিল, নিশ্চয়ই মেয়েটি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিছু একটা বলেছিল, অনেক উপরে থাকা তাঁর উদ্দেশ্যে।

লাইনে কাটা পড়া মেয়েটিও খুঁজেছিল কাউকে, যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। যিনি থাকেন অনেক অনেক দূরে।

যিনি দেশের প্রধান, তিনিও বাবা মা। যিনি মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, দপ্তর, অধিদপ্তরের প্রধান, তিনিও বাবা মা। যিনি ধরবেন, যিনি বিচার করবেন, তিনিও বাবা মা। যারা আইন প্রণয়ন করবেন, তাঁরাও বাবা মা। আসুন একটা কিছু করি।

এখন আর কেউ আসবে না। শুধু নীল আকাশ অভিশাপে কাল হতে থাকবে এবং একদিন ধ্বসে পড়বে।

লেখক- যুগ্ম সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও সদস্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

(লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত )

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =