দেওয়ানগঞ্জে যমুনার তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে গুচ্ছগ্রামের ১৩০টি ঘর

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে স্থাপিত দুইটি গুচ্ছগ্রামের ১৩০ টি ঘর যমুনা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পতিত হয়েছে। যমুনা নদী থেকে মাত্র ১৫০ ফিট দূরত্বের এসব ঘর আগামী কয়েকদিনের ভিতরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র ভাঙ্গনে এই অঞ্চলের ৩৫০ টি পরিবারের ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের দুর্গম যমুনার চরাঞ্চল চর হলকা হাবড়াবাড়ি টিনের চরের ২ নং এবং ৩নং ওয়ার্ডে ১২ শত লোকের বাস। তার ভেতর সরকার গুচ্ছ গ্রাম করে হাবড়াবাড়ি-২ তে ৬০ টি এবং চর হরিনধরায় ৭০ টি ঘর বরাদ্দ দিয়েছিল। গত কয়েক বছরে গাছ পালা লাগিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। যমুনার করালগ্রাসে নিজেদের ভিটেমাটি জমা জমি সবকিছু হারিয়ে সরকারি বরাদ্দকৃত গুচ্ছগ্রামের একখন্ড ছোট্ট ঘরে নিজেদের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিল যমুনাপাড়ের চরাঞ্চলের এসব খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যমুনা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে গুচ্ছগ্রামের ১৩০ টি ঘর হুমকির মুখে পরেছে। চলমান নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই গুচ্ছগ্রামের ১৩০ টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কিছু এলাকাবাসীর দাবী, ইতোপূর্বে এই যায়গায় কোন নদী ভাঙ্গন ছিল না হঠাৎ কেন এত ভাঙ্গন শুরু হলো এটি তাদের বোধগম্য নয় । তাদের দাবী যেন গুচ্ছগ্রামের এইসব ঘর ভাঙ্গনের পূর্বেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় ।

স্থানীয় এই গুচ্ছগ্রামের এক বাসিন্দা বরকত আলি (৪৫) হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ভিটেমাটি সবকিছু হারিয়ে সরকারের দেওয়া এই ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম, এটিও যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এখন আমাদের বেঁচে থাকার আর কোন উপায় থাকলো না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান সেলিম খান, জানান গত কয়েকদিনের তীব্র নদী ভাঙ্গনে ৩৫০ টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। দুইটি গুচ্ছ গ্রামের ১৩০ টি ঘর এখন হুমকির মুখে। তাড়াতাড়ি ব্যাবস্থা গ্রহণ করা না হলে এসব পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। তিনি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ মাসের ২৫ তারিখে যমুনা নদীর ভাঙ্গনের শিকার দুটি গুচ্ছ গ্রাম পরিদর্শন করেন দেওয়ানগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামান। যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকার ভাঙ্গনও পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হাসান, চুকাইবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রাসেদুজ্জামান সেলিম খান ,উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন, কালের কন্ঠের দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি তারেক মাহমুদ।

সহকারি কমিশনার ( ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন বিষয়টি লিখিত এবং মৌখিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা যেন ঘর গুলি স্থানান্তরের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতে ঘরগুলি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারের অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *