জামালপুর-ঢাকা রেলপথ : আন্তনগর ট্রেনে আসন বরাদ্দ কম, যাত্রীদের দুর্ভোগ

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেনে চাহিদার তুলনায় আসন বরাদ্দ কম। এ কারণে অনেকে কালোবাজারে বেশি দাম দিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, সড়কপথে জামালপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ভালো মানের বাস নেই। ফলে জেলার বেশির ভাগ মানুষ ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। ট্রেনে বরাদ্দ আসনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন।

জামালপুর পৌর শহরের কাচারিপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন বলেন, ‘শনিবার (গতকাল) আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেসের তিনটি টিকিটের জন্য দুই দিন আগে থেকে স্টেশনে ঘুরছি। আরও কয়েক দিন আগেই নাকি টিকিট শেষ হয়ে গেছে। পরে কালোবাজারিদের কাছ থেকে প্রতিটি এসি টিকিট ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে নিতে হয়েছে। কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও কালোবাজারে ঠিকই পাওয়া যায়। জামালপুরবাসীর জন্য আরও আসন বরাদ্দ এবং নতুন একটি আন্তনগর ট্রেন দরকার।’

রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-জামালপুর রেলপথে প্রতিদিন চারটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। সেগুলো হচ্ছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস। এগুলোর মধ্যে তিস্তায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) আসন ৪৫টি, এসি কেবিন ১২টি, সাধারণ কেবিন ১৫টি ও শোভন চেয়ার ১২০টি; ব্রহ্মপুত্রে প্রথম শ্রেণি ২৩টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ ৮৫টি; যমুনায় প্রথম শ্রেণি ২৩টি, কেবিন ১৫টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ ২৫টি এবং অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে প্রথম শ্রেণি ২৩টি, কেবিন ১৫টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ ৬০টি আসন রয়েছে।

জামালপুর স্টেশনের প্রধান পার্সেল সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী টিকিট মাস্টার মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘জামালপুরে ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রী রয়েছেন। তাঁদের জন্য মাত্র ৬১১টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এ কারণে আমরা টিকিট দিতে বেকায়দায় পড়ে যাই। এ ছাড়া শেরপুরের লোকজনও জামালপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন আসন বিক্রি নিয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে আমাদের বিবাদে জড়াতে হয়। এর মধ্যে এক বছর ধরে অগ্নিবীণা ট্রেনের একটি বগি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে।’

স্টেশনমাস্টার মির্জা মো. শামছুল আলম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকাগামী ট্রেনগুলোয় বেশি আসন বরাদ্দ চেয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েও প্রতিকার হয়নি। আর টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ মিথ্যা। কালোবাজারির সঙ্গে স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত নন। তবে কিছু লোক কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে পারেন। সেই টিকিট অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে পারেন। প্রথম আলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *