জামালপুর-এক (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ): কে ধরছেন নৌকার হাল?

নির্বাচনের দিনক্ষন ঘনিয়ে আসছে। সেই সাথে দুদলই গুছিয়ে আনছে তাদের প্রস্তুতি। প্রার্থীরাও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। জামালপুরের নির্বাচনী এলাকার হালচাল নিয়ে জামালপুর বার্তার বিশেষ আয়োজন ভোটের বার্তা’র প্রথম পর্বে থাকছে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে বিস্তারিত।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) 

এই অাসনে আওয়ামী লীগ বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।  দলীয় মনোয়নপত্রও দাখিল করেছেন ১১ জন!  তারা হচ্ছেন- সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইশতিয়াক হোসেন দিদার, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প-বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন, ডা. মনিরুজ্জামান, ডা. মোকছেদুর রহমান, এএম নুরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোফাখখার খোকন, বকশীগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম ও ফারুক আজিজ। তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনায় আছেন মাত্র তিন/চার জন।

আবুল কালাম আজাদ এমপি

এ আসনের বর্তমান এমপি সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং তিন বারের নির্বাচিত এমপি আবুল কালাম আজাদ।  মনোনয়ন মাঠে মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ সবসময় এগিয়ে ছিলেন এখনো আছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্র মতে, তিনি ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন অন্য কারো পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবুও  আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা মনোনয়ন পাবেন কি’না তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত।

আবুল কালাম আজাদ

 

আবুল কালাম আজাদ : মনোনয়ন যুদ্ধে অন্যতম আলোচিত হচ্ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ । আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষীত ও ত্যাগী নেতা  হিসেবেই তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। এবার মনোনয়ন পেতে ব্যাপক প্রচারণা ও দৌড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ  বর্তমান মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের মনোনয়ন না দেওয়ার নীতি গ্রহন করছে। আর এই নীতিতে মনোনয়ন দৌড়ে তার ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

নুর মোহাম্মদ

অপরদিকে নুর মোহাম্মদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে প্রায় ৫০ হাজার ভোট পান। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাকে আওয়ামী লীগে কোণঠাসা হয়ে পরেন। বেশ কয়েকবার  হামলা-মামলার শিকার হন তিনি আর তার সমর্থকরা। এ কারণে তিনি দীর্ঘ ৪ বছর ছিলেন দলের বাইরে। সম্প্রতি তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পান ।  নির্বাচনে প্রার্থীতা পেতে মনোনয়ন কিনেছেন তিনিও। তবে মনোনয়ন দৌড়ে তিনি যে বেশ পিছিয়ে তা স্পষ্ট।

ইস্তিয়াক হোসেন দিদার

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আরেকজন সাবেক দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলহাজ্ব ইসতিয়াক হোসেন দিদার। তিনিও এই আসনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন তবে খুবই সীমিত পরিসরে। দেওয়ানগঞ্জে তিনি খুবই পরিচিত মুখ । তার সমর্থকরাও তার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। যদিও সমালোচকরা মনে করেন তিনি আসলে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করে আগাচ্ছেন এবং মনোনয়ন কিনে শুধুমাত্র রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ফারুক আজিজ

গত সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন প্রত্যাহার করে আলোচনায় আসেন আজিজ আহমেদ হাসান (ফারুক আজিজ ) ।  এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে দৌড়ঝাপ করছেন তিনিও। তবে তার মনোনয়ন পাওয়া এতটা সহজ বলে মনে করছেন না তার সমর্থকরাও।

 

আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন

এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প-বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন, ডা. মনিরুজ্জামান, ডা. মোকছেদুর রহমান, এএম নুরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোফাখখার খোকন, বকশীগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তেমন আলোচনায় আসেননি কেউই।

 

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − nine =