আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তাঁরা বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরে কর্ম জীবনধারা’ শিরোনামে আজ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে উদ্যাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার রক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাই এবারের নারী দিবসের মূল লক্ষ্য।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোড মডেল হিসেবে স্বীকৃত।’ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

 

নারী দিবসে জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য

১৯৯৬ অতীত উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (Celebrating the Past, Planning for the Future)

১৯৯৭  নারী এবং শান্তি (Women and the Peace Table)

১৯৯৮ নারী এবং মানবাধিকার (Women and Human Rights)

১৯৯৯ নারী প্রতি সহিংসতামুক্ত পৃথিবী (World Free of Violence Against Women)

শান্তি স্থাপনে একতাবদ্ধ নারী (Women Uniting for Peace)

২০০১  নারী ও শান্তি : সংঘাতের সময় নারীর অবস্থান (Women and Peace: Women Managing Conflicts)

২০০২  আফগানিস্তানের নারীদের বাস্তব অবস্থা ও ভবিষ্যৎ (Afghan Women Today: Realities and Opportunities)

২০০৩ লিঙ্গ সমতা ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Gender Equality and the Millennium Development Goals)

২০০৪  নারী এবং এইহ আই ভি/ এইডস (Women and HIV/AIDS)

২০০৫  লিঙ্গ সমতার মাধ্যমে নিরাপদ ভবিষ্যত (Gender Equality Beyond 2005; Building a More Secure Future)

২০০৬ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী (Women in Decision-making)

২০০৭  নারী ও নারী শিশুর ওপর সহিংসতার দায়মুক্তির সমাপ্তি (Ending Impunity for Violence Against Women and Girls)

২০০৮ নারী ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ(Investing in Women and Girls)

২০০৯  নারী ও কিশোরীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নারী-পুরুষের একতা (Women and Men United to End Violence Against Women and Girls)

২০১০  সমান অধিকার, সমান সুযোগ- সকলের অগ্রগতি (Equal Rights, Equal Opportunities: Progress for All)

২০১১  শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ (Equal Access to Education, Training, and Science and Technology:

Pathway to Decent Work for Women)

 

২০১২  গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন- ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সমাপ্তি (Empower Rural Women, End Poverty and Hunger)

২০১৩ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময় (A Promise is a Promise: Time for Action to End Violence Against Women)

২০১৪  নারীর সমান অধিকার সকলের অগ্রগতির নিশ্চয়তা (Equality for Women is Progress for All)

২০১৫  নারীর ক্ষমতায়ন ও মাবতার উন্নয়ন (Empowering Women, Empowering Humanity: Picture it!)

২০১৬ অধিকার মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান (Planet 50-50 by 2030: Step It Up for Gender Equality)[২০][২১]

২০১৭  নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব কর্মে নতুন মাত্রা। (Women in the Changing World of Work: Planet 50-50 by 2030)

২০১৮ সময় এখন নারীর: উন্নয়নে তারা বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবনধারা (Time is Now: Rural and urban activists transforming women’s lives)

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 1 =