ঘরের মাঝে থাকুক এক টুকরো সবুজ

ঘরের মধ্যে এক টুকরো সবুজ কার না ভাল লাগে। সবুজ সতেজ হাউজ প্ল্যান্ট মোহনীয় করে তোলে ঘরের ভিতরটা। মাঝে মাঝে একটু চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিন, পাবেন আনকোরা সবুজিয়া ঘ্রাণ। ইনডোর প্ল্যান্ট শুধুমাত্র আপনার ঘরের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না বরং তা স্বাস্থ্যের বিভিন্ন উপকারও করে থাকে। ঘরের বায়ু বিশুদ্ধ করা থেকে শুরু করে তা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভেও দারুন ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঘরের মাঝে যেসব গাছ রাখা যায়

বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি আছে যা ঘরের মাঝেই রাখা যায়।  আপনি যদি গাছপ্রেমী হয়ে থাকেন তবে নার্সারি গুলোতে একটু খোঁজ খবর নিয়ে ঘরে রাখার জন্য মনমতো গাছের (ইনডোর প্ল্যান্ট) সন্ধান পেতে পারেন। মূলত ঘরের ভিতর এবং চারপাশে আপনি যেসব গাছ রাখতে পারবেন, তা হল- অর্কিড, পাতাবাহার, অ্যালোভেরা, পাম ট্রি, চাইনিজ এভারগ্রিন, ক্যাকটাস, ইংলিশ আইভি, সিলভার কুইন, বোস্টন ফার্ন, স্পাইডার প্ল্যান্ট, পিস লিলি, বনসাই, ক্যালাডিয়াম, ফার্ণ, সিলোন গোল্ড, পাথর কুচি  ইত্যাদি। এসব গাছ আপনি শোবার ঘর, বসার ঘর,  রিডিং রুম, বারান্দা, অফিস এমনকি যে কোন আবদ্ধ স্থানে রাখতে পারেন। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, তার যত্নআত্তিও ঠিক ভাবে করতে হবে।

ইনডোর প্ল্যান্ট কেন লাগাবেন?  

সবুজ গাছপালা বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড কমিয়ে অক্সিজেন বৃদ্ধি করে। এছাড়াও ইনডোর প্ল্যান্ট বায়ু থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। হাউজ প্ল্যান্ট যেভাবে বায়ু বিশুদ্ধ করে তেমনি ঘরকেও স্বস্তিদায়ক করে।  মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে, রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে এবং ঘরকে প্রশান্তিকর করে তোলে। হর্টিকালচার থেরাপি প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক ‘গ্যারি এল. আল্টমান’ বলেন, “ইনডোর প্ল্যান্টের বায়ু বিশুদ্ধকরণ ক্ষমতা নির্ভর করে উদ্ভিদের আকার, ইনডোর স্পেস বা আবদ্ধ স্থানের আকার ও বায়ুতে টক্সিনের পরিমাণের ওপর। ৬ থেকে ৮টি মাঝারি থেকে বড় আকারের ইনডোর প্ল্যান্ট একটি বড় কক্ষের বায়ুর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।”

যেভাবে ইনডোর প্ল্যান্টের যত্ন নিবেন

ইনডোর প্ল্যান্ট যেমন ঘরের শোভা বাড়ায় তেমনি আপনার রুচিশীলতারও পরিচয় দেয়। তাই, এই গাছগুলোর সঠিক ভাবে পরিচর্যাও করতে হবে। হাউজ প্ল্যান্টের যত্ন-আত্তির  জন্য যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল-

ঘরের সাথে মানানসই গাছপালা কিনুন

ঘরের পরিবেশ এবং অন্যান্য আসবাব সামগ্রীর সাথে মানানসই গাছপালা বাছাই করুন। গাছ রাখার টব, হোল্ডার, জারগুলো যেন ঘরের অন্যান্য জিনিসের সাথে সামজ্জস্য হয় সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন। একটার পর অন্য গাছের টবটা কিছুটা দূরত্বে রাখুন।

ভাল ধরনের টব কিনুন

অনেক সময় গাছ লাগানোর ফলে সস্তা মাটির টবগুলোতে ফাঙ্গাস পরে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তাই, গাছ লাগানোর জন্য ভাল মানের মাটির, পাথরের, সিরামিকের  পট বা হোল্ডার, স্বচ্ছ কাচের জার, টেরাকোটার পট, কাঠের বক্স, কাঠের স্ট্যান্ড, সিরামিক বা পিতলের পট ইত্যাদি কিনুন।

আলো-বাতাস আসে এমন জায়গায় গাছ রাখুন 

মূলত যেসব গাছ ছায়ায়, রোদে, আলোতে, তাপ সহনশীলতায় বাঁচে সেসব গাছ নির্বাচন করাই ভাল। আপনার ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন জায়গায় গাছ রাখুন। তবে অনেক গাছ ছায়াতেও ভাল বেড়ে উঠে। তাই, যেসব ঘর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেইসব জায়গায় যাতে ছায়া ও ঠান্ডায় ভালভাবে বেড়ে উঠে সে ধরনের গাছ রাখুন।

রোদে রাখুন

অনেক সময় ঠান্ডা ও আলো কম পৌঁছায় এমন জায়গায় গাছ রাখা হয়। তাই, সপ্তাহে এক-দুবার সকাল বা বিকাল গাছগুলোকে একটু রোদে রাখলে ভাল হয়। এতে গাছগুলো কিছুক্ষণের জন্য হলেও খোলা আলো-বাতাস পাবে।

টবের নিচে ছিদ্র করে দিন

গাছের টবে সাধারণ বেলে-দোআঁশ মাটি দিলে ভাল হয়। প্রতিটি টবের নিচের অংশে ছিদ্র রাখা উচিত, যাতে অতিরিক্ত পানি হলে তা বেরিয়ে যেতে পারে। মাটির মাঝে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস বের করার জন্য আট-দশ দিন অন্তর অন্তর গাছের মাটি একটু ওলট-পালট করে দেওয়া ভালো।

গাছে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার দিন

ইনডোর প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে শুকনো গোবর, ডিমের খোসা, চায়ের পাতা অনেক বেশি উপকারী। গাছের মাটিতে ডিমের খোসা এবং চা পাতা চূর্ণ করে গুড়ো করে দিলে অনেক ভালো হয়।  এইগুলো ভাল সারের কাজ করে এবং গাছও সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠে। এছাড়াও প্রায় সব নার্সারিতেই  জৈবসার পাওয়া যায়, সেখান থেকে কিনেও আনতে পারেন।

গাছের পাতায় পানি স্প্রে করতে হবে

অনেক সময় গাছের পাতায় ধূলা-ময়লার আস্তরণ পড়ে। সেক্ষেত্রে গাছের পাতায় স্প্রে বোতলে পানি নিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। এছাড়াও নিয়মিত গাছের মরা ডাল ও পাতা ছেঁটে  দিতে পারেন।

ইনডোর প্ল্যান্ট এবং টব কোথায় পাবেন

বিভিন্ন এলাকার নার্সারিগুলো থেকে ইনডোর প্ল্যান্ট কিনতে পারবেন। এছাড়াও চারুকলার সামনে, আগারগাঁও বাসস্ট্যান্ড, দোয়েল চত্বর, মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়াম সংলগ্ন, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের কাছে, মিরপুর রোডের পাশে এগুলো পাওয়া যায়। এসব জায়গা থেকে আপনি দরদাম করে আপনার পছন্দমতো হাউজ প্ল্যান্ট  কিনতে পারেন। এছাড়াও গাছের টব ডিজাইন ও আকৃতি ভেদে বিভিন্ন রকম এবং এর দামেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।  পাথর, চীনামাটি,  মোটা প্লাস্টিক, মাটি ইত্যাদি টব দামে কমবেশি হেরফের হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে দোয়েল চত্বরে, ঢাকা কলেজের সামনে, মিরপুর-২ নাম্বার, কলাবাগান মাঠের পাশে, সায়েন্স ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের  টব পাওয়া যায়।

পরিবেশ বান্ধব গাছ আমাদের নানা উপকার করে থাকে। ইট-কাঠের এই শহরে নিজের অন্দরকে সবুজিয়া সতেজতায় ভরিয়ে তুলতে আজই এলাকার নার্সারিতে একটু খোঁজ-খবর নিয়ে আসতে পারেন।

সাবরিনা দিলশাদ এলিন- Ullash TV, Photo by mentatdgt from Pexels

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *