স্বামীর মৃত্যুশোক সইতে পারলেন না পাইলট আবিদের স্ত্রী 

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম পরপর দুইবার ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার পর আজ শুক্রবার  ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে  মারা গেছেন  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আবিদ সুলতানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও একদিন পর ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থান তিনি মারা যান।   সোমবার তিনিসহ ২৩ জনের মরদেহ দেশে আনা হয় ।

আবিদ সুলতান এবং আফসানা খানম দম্পতির একমাত্র সন্তান  তানজিব ঢাকায় ‘ও’ লেভেলে পড়াশোনা করছে।  আবিদ সুলতানের গ্রামের বাড়ি নওগাঁয়। তিনি জেলার রানীনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর রানীনগর গ্রামের খাঁনপাড়ার এমএ কাশেম খাঁনের ছেলে। তার বাবাও পাইলট ছিলেন। অার তার স্ত্রী আফসানা খানমের বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায়।

এই দম্পতির এমন অকাল প্রয়ানের শোক ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  কানিজ ফাতেমা লিখেছেন,  “স্বামীর মৃত্যুতে ঠিক কতখানি কষ্ট পেলে স্ত্রীও এভাবে এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে চলে যেতে পারেন আমি জানি না..স্বামীর জীবিত চেহারাটাই স্মৃতিতে রেখে চলে গেলেন ভদ্রমহিলা.. বাবা-মাকে একসাথে হারিয়ে তাদের একমাত্র সন্তানের মনের অবস্থা কেমন সেটা কল্পনা করতেও ভয় লাগছে.. পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ দুজনের লাশের ভার একসাথে এই ১৭ বছরের এইটুকুনি ছেলেটা বইবে কী করে?”

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে।

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 2 =