করোনার সময়ে শিশুর যত্ন

এস এম ডি সোহেল রানা

সবার মুখে এখন আতংকের আরেক নাম করোনা ভাইরাস। সারা পৃথিবীর মানুষকে থমকে দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এ করোনা এ আক্রমণ।প্রতিদিনেই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। কোন কোন দেশকে মৃত্যুতে শোকাবহ অশ্রু বন্যা বয়ে দিয়ে যাচ্ছে, শূন্য হয়ে যাচ্ছে জমজমাট জায়গাগুলো। বর্তমানে বিশ্বের মৃত্যুের সংখ্যা বেড়েই চলছে, সেই সাথে বাড়ছে বাংলাদেশের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ।

আমাদের দেশে আজকে চলছে সাধারণ ছুটি। সকল গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়েছে অনেক আগেই। ঘরবন্দি বিষয় সকলের জন্য ভয়াবহ হলেও আপাতত করার কিছু নেই। মহামারির সময়ে না চাইলেও বাড়িতে সবাই একসাথে অবস্থান করছেন। শিশুরা সহ, যে শিশুরা সময় পেলেই গ্রামের কাঁদা, ধুলোবালির মাঝেই খেলায় মেতে থাকতো, চারদিকে দল বেধে বিভিন্ন মজার মজার খেলায় ব্যস্ত সময় পার করতো। এইদিকে শহরের শিশুরা গ্রামের মতো সুযোগ না পেলেও তারাও ঘরে বসে থাকতো না। সময় পেলে তারা বন্ধু সাথে গল্প, রাস্তার অলিগলিতে খেলাধুলায় সময় পার করতো। কখনো মা-বাবার সাথে বাহিরের পার্কে বা খোলা স্থানে ঘুরে বেড়াতো। এখন সবাই ঘরে বসে সময়ই পার করছে। কিন্তু এ বন্ধ জীবন ত শিশুদের জন্য নয়।

আগের মতো হাসা-আনন্দ, ঘুরা-ফেরা কমে গেছে, একাই মন মরা হয়ে জানালা ধরে দাড়িয়ে থেকে শুধু চারপাশে তাকিয়ে থাকে। এরকম ঘটনা আমার বাসার আশেপাশে শিশুদের দেখে আসছি কয়েকদিন থেকে। কিন্তু উল্লাস হাস্যজ্জ্বল শিশুগুলো এ অবস্থার ফলে মানসিক ভাবে ক্ষতির মুখে পরছে। কবি কবিতায় বলছেন, থাকবো নাকো বন্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগৎটাকে, কেমন করে ঘুরছে মানুষ, দেশ হতে দেশ দেশান্তরে। কিন্তু শিশুরা কবে মুক্ত ভাবে ফিরবে এখনো জানা নেই। তাই এরকম আতংকময় অবস্থা থেকে রক্ষা করে শিশুকে হাসি-আনন্দময় রাখা পরিবারের সকলের করণীয়। এ সময় যা করা যেতে পারে।

★ সব সময় করোনার ভয়াবহ খবরগুলো তাদের সামনে না দেখা ★ বেশি বেশি অন্য অনুষ্ঠান ও স্বাভাবিক বিনোদনের মধ্যে রাখা। ★ তাদের নিয়ে ঘরে বিভিন্ন খেলাধূলার ব্যবস্থা করা ★ বিভিন্ন ছড়া, কবিতা কৌতুকময় গল্প বলে মনে খুশি রাখা। ★ বিভিন্ন খেলার সামগ্রি দিয়ে তাদের সাথেও নিজেরাও রান্নাবাটি, লুকোচুরি খেলায় মাতিয়ে রাখা। ★ শিশুদের মাঝে একে অপরের সাথে লেখালেখি, ছবি আঁকা ইত্যাদি প্রতিযোগিতা মধ্যে রাখা। ★ খাবারের মাঝে তাদেরকে খুশিতে রাখা, বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরি করা শিশুদের জন্য ★ কাগজ দিয়ে ফুল তৈরি করাসহ অন্য কিছু শিখানো এবং নিজে সাথে নিয়ে বাগান কাজ করা। ★ করোনা সর্তকতার বিষয়গুলো তাদের সাথে আলোচনা করা ও হাত ধোয়ার নিয়ম গুলো নিজে করে দেখিয়ে দেওয়া।

এছাড়াও বড়দের উচিত হবে তাদের বেশি বেশি সময় দেওয়া, ধর্মীয় আলোচনা ও গ্রন্থ পড়তে শিক্ষা দেওয়া, শিশুদের মনের কথাগুলো শুনে তাদের মতো আচরন করা ও ওদের পছন্দের ভালো কাজগুলো করতে দেওয়া। তাহলে ভয়াবহ করোনা ভাইরাস আতংক তাদের মনে থেকে দূরে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *