তৌকীর অাহমেদের হালদা- একটি প্রতিবাদের গল্প

নয়ন  অাসাদ: শেষবার কবে সিনেমা হলে গিয়েছিলাম মনে নেই । গতকাল রাকিব ভাইয়ের অনুরোধে গেলাম হালদা দেখতে । গাজীপুরের চান্দনায় । ছিমছাম হল । দেখে বোঝাই যায় এক সময় অনেক মানুষের সমাগম হতো । টিকেট আর বিশ টাকায় বাদাম কিনে বসলাম সিনেমা হলে । সব মিলে পঞ্চাশ জনের মত দর্শক ।এবং সবাই বয়সে তরুন । আসি সিনেমার বিষয়ে, সিনেমার গল্প এবং বক্তব্য বাংলাদেশের বাস্তবতায় খুবই প্রাসঙ্গিক । এবং বাংলা সিনেমায় এমন প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সিনেমার কথা চিন্তা করা কঠিনই হওয়ার কথা । বাংলা সিনেমাতে যেখানে পরিচ্ছন্নতা আশা করাটাই অনেক সেখানে একটি সিনেমা জীবনের কথা বলবে তা আশা করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক বড় ব্যাপার । হালদা সে কাজটিই করার চেষ্টা করেছে । জীবনের কথা বলতে চেয়েছে । সিনেমার মুল চরিত্রে তিশা, মোশারফ করিম ,জাহিদ হাসান ও ফজলুর রহমান বাবু । তিশা হালদা পাড়ের মেয়ে, সিনেমায় যার নাম হাসু । সিনেমাটি মুলত তাকে ঘিরেই । বদি চরিত্রে মোশারফ করিম । বদি এবং হাসুর বাবা মনু মিয়া মাছ ধরতে সাগরে গিয়ে জলদস্যূর আক্রমনে কোনমতে জীবন নিয়ে ফিরে আসে । তারপার হাসুর সাথে বদির রসায়নে মঞ্চে আসে ইটভাটার মালিক নাদের আলী ।হাসুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সে সব হারিয়ে নিঃস হাসুর বাবা মনু মিয়া ঋণের টাকা যোগাড় করতে হিমশিম খেয়ে বিয়েতে রাজি হয় বিয়েও হয়ে যায় ।অতপর গল্প আগায় জেগে উঠে হাসু বদির পুরনো প্রেম । হাসুর স্বামী নাদের আলীর দ্বিতীয় বউ হাসু । প্রথম বউ বাচ্চা দিতে অক্ষম বলে দ্বিতীয় বিয়ে করে ইটভাটার মালিক নাদের আলী ।কিন্তু মুলত নাদের আলীই অক্ষম সেটা নাদের আলী ভালো করেই জানা সত্ত্বেও মায়ের কথায় বিয়ে করে সে । কিন্তু ঝামেলা বাধে তখন যখন হাসুর পেটে আসে সন্তান । নাদের আলী বুঝতে পারে সেটা তার সন্তান নয় । দ্বিতীয় বউয়ের প্ররোচনায় বদির সাথে বের হয়ে যায় হাসু । নিঝুম দ্বীপে ঘর বুনে তারা কিন্তু নাদের আলী সেটা মানবে কেন ? সে খুঁজে বের করে তাদেরকে ।বদিকে হত্যা করে ইটভাটায় পোড়ায় । গল্পের শেষে হাসু নাদের আলীকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেয় ।মোটামোটি এটাই সিনেমার সারক্ষেপ ।কিন্তু সিনেমার এই কাহীনির সাথে পরিচালক যোগ করেছেন হালদা পাড়ের জীবন ও জীবিকা । হালদার গুরুত্ব ও সেই সাথে ইটভাটা ও কলকারখানার বদৌলতে হালদার দূষন । পরিবেশ ধ্বংসকারী কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে খেটে খাওয়া মানুষদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিশেষ করে তাদের পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়িত্বেবোধ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সহজাত ঘৃণা তুলে ধরা হয়েছে যত্নের সাথে ।সব মিলিয়ে হালদা সিনেমার গল্প খুবই প্রাসঙ্গিক এবং বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি সাহসী সিনেমা । এরকম সিনেমা অনেক অনেক হওয়া দরকার । আমাদের চিন্তার দরজা দিতে হালদার মত সিনেমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সিনেমার তৈরিটাও ভালো ছিল বিশেষ করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের দৃশ্যগুলো মন কাড়ে ।দুই ঘন্টা সতের মিনিটের সিনেমায় কাউকে বিরক্ত হয়ে চলে যেতে দেখিনি । তবে সবচেয়ে খারাপ লেগেছে শটগুলোর পরিবর্তন । খুব চোখে লেগেছে । রাত থেকে দিন, দিন থেকে রাতের পরিবর্তনগুলো প্রায়শই চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে । কাহিনীতে অসামঞ্জস্যও কম ছিল না । কাহিনীর কাঠামোও তেমন মজবুত ছিল না । অনেক বিষয় পরিচালক এড়িয়ে গেছেন । গল্পের ফাঁকে ফাঁকে আপনার চোখে তা পড়বেই ! দর্শক হিসেবে সেগুলো আমিও এড়িয়ে যেতে চাই… এগিয়ে যাক হালদা । বাংলা সিনেমা যোগাক চিন্তার খোরাক ।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − fourteen =