ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল বাঁধ : ভাঙা অংশ মেরামত হয়নি, পানি বাড়ায় আতঙ্ক

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল বাঁধের হার্ড পয়েন্টের বেশির ভাগ অংশ গত বন্যায় ধসে যায়। এরপর প্রায় এক বছর শুকনো মৌসুম গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ মেরামত শুরু করেনি। এখন যমুনার পানি বাড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙনের আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, শুকনো মৌসুমে পাউবোর লোকজন বরাদ্দ না থাকার কথা বলে বাঁধ মেরামত করেন না। পরে ভাঙন শুরু হলে এই পাউবোই কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করে। তখন স্রোতের কারণে বাঁধ রক্ষাও হয় না। ক্ষতি যা হওয়ার হয় স্থানীয় ব্যক্তিদের। প্রতিবছর এভাবে বাঁধ রক্ষার বৃথা চেষ্টার কথা বলেলক্ষ-কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদার ও পাউবোর লোকজন।

পাউবোর জামালপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর বাঁধের ধসে যাওয়া ২০০ মিটার অংশ প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। গত বছরের ৭ মে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে ৩০ জুন শেষ করে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ওই সময় তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়। সে সময় নদী ভরা পানি ছিল। পানির মধ্যে শুধু জিও ব্যাগ ফেলা হয়। সেগুলো কোনো কাজে লাগেনি।

এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর বাঁধের যে অংশে স্রোত সরাসরি আঘাত হানে (হার্ড পয়েন্ট), তা রক্ষায় কিছু বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এরপর আর কাজ করা হয়নি। ওই সব জিও ব্যাগ ছিঁড়ে ও ফেটে গিয়ে বালু বেরিয়ে পড়ছে। এখন আবার যমুনায় পানি বাড়া শুরু হয়েছে। এ কারণে দ্রুত বাঁধের গুঠাইল অংশে কাজ শুরু করা দরকার। না হলে ঐতিহ্যবাহী গুঠাইল বাজার এবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবার নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাউবো তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলে টাকা নষ্ট করে। কিন্তু শুকনো মৌসুমে এ কাজটুকুও করা হয় না। ফলে গুঠাইল বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়সহ পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের গুঠাইল বাজারসংলগ্ন অংশ ভাঙনকবলিত। যমুনার পানিও আগের চেয়ে বেড়েছে। আর একটু পানি বৃদ্ধি পেলে বাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হবে। বাঁধে গত বছর ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ছিঁড়ে ও ফেটে গেছে। কিছু জিও ব্যাগ পচে যাচ্ছে।

গুঠাইল বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, তিন দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। অনেক বস্তা স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। বাজার রক্ষায় গত বছরের বস্তা কাজে লাগবে না। এভাবে পানি বাড়লে কয়েক দিনের মধ্যে বাঁধ ভেঙে বাজারের ভেতর ঢুকে পড়বে। এতে বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ীকে পথে বসতে হবে।

টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবোর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধ মেরামতের প্রকল্প অনুমোদন হতে অনেক সময় লাগে। প্রকল্প পাস হতে হতে অনেক সময় ভাঙন শুরু হয়। এখন গুঠাইল বাঁধ (হার্ড পয়েন্ট) থেকে কুলকান্দি পর্যন্ত সংস্কারের জন্য ৩৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তবে গুঠাইল হার্ড পয়েন্টটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে ভাঙন শুরু হলে তা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *