বকশীগঞ্জে সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম- খালেদা জিয়ার কিছু হলে পরিনাম হবে ভয়াবহ

মাসুদ উল হাসান ॥ বিএনপি’র চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে পরিনাম হবে ভয়াবহ। কঠিন খেসারত দিতে হবে আপনাদের। সরকারের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা সাবেক আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ুম।

তিনি আরো বলেন,গুম,খুন করে ও মামলা হামলা দিয়ে বিএনপিকে দমন করতে পারবেন না। এদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। মনে রাখবেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। এদেশের মানুষ এখন তাদের ভোটের অধিকার চায়। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সেনা মোতায়েন করে নির্বাচন দিন, দেখি সারাদেশে কয়টি আসন পান। পালানোর পথ খোঁজে পাবেন না। রোববার দিনব্যাপী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে লিফলেট বিতরণ শেষে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এদেশের মানুষের সেনাবাহিনীর উপর আস্থা রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কিন্তু আপনারা তা করতে চাননা কারন সেনাবাহিনীর কথা শুনলে আপনাদের হাত পা কাপে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,ভোটের রাজনীতি করার ইচ্ছা আমার কোনদিনই ছিলোনা। নেত্রী একদিন আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন ভোটের মাঠে রাজনীতি করতে হবে। আমি বললাম ম্যাডাম আমি আপনার সাথে আগেউ ছিলাম,এখনো আছি ভবিষ্যতেউ থাকবো। কিন্তু নেত্রী আমাকে আপনাদের মাঝে পাঠালেন। তাই ম্যাডামের নির্দেশে আপনাদের সেবা করতে এসেছি। আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সামনে সুদিন আসবেই। প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে তারা গত নির্বাচনের মত সীল মেরে জোরপুর্বক ভোট ছিনিয়ে না নিতে পারে।

কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুজ্জামান মতিন বলেন,গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে অনেক ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটার খোজেঁ পাওয়া যায়নাই। সীল মারারও লোক ছিলোনা। তাই রাস্তা থেকে ধরে এনে শিশুদের দিয়ে সীল মারানো হয়েছে। কেন্দ্রের ভিতরে বাইরে পাহারায় ছিলো কুত্তা(কুকুর)। তাই ভোটার বিহীন ওই নির্বাচনকে অনেকেই কুত্তা মার্কা নির্বাচন বলেন আখ্যা দেন। সামনে যাতে দেশে ভোটারবিহীন কোন নির্বাচন না হয় সেদিকে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখবেন মানুষ যদি একবার ভোট দেয়ার সূযোগ পায় সারাদেশের কোন আসনেই ভোট হিসাব করতে হবেনা। আমি অপনাদের উদ্দেশ্যে আরেকটি কথা বলতে চাই বিএনপির কোন বহিস্কৃত নেতাকর্মীদের কথায় আপনারা কান দেবেন না। মনে রাখবেন দলের গ্রীনসিগন্যাল পেয়েই মাঠে নেমেছেন মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সামনের দিনে বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে।

রোববার রাতে শহীদ সালাউদ্দিন মাঠে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মোকাদ্দেছ রিপনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক রকিবুল হাসান বাবুল,সদস্য সচিব আবদুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহবায়ক হাফিজুর রহমান ফিরোজ,সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল সাফী লিপন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী,কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাচ্চা প্রমূখ।

কর্মী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রব্বানী,যুগ্ন আহবায়ক হাফিজুর রহমান উজ্জল,যুগ্ম আহবায়ক ময়ান আলী,পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল্লাহ,যুগ্ন আহবায়ক আল আমিন বিদ্যুৎ,যুগ্ন আহবায়ক সুমন মিয়া,যুগ্ন আহবায়ক গোলাম রব্বানী বানী, উপজেলা জাাসাসের সভাপতি প্রভাষক বজলুর রশিদ,উপজেলা শ্রমিকদলের আহবায়ক কায়ছার আমীন,মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম পূলক,সদস্য সচিব জুলফিকার আলী ভুট্টো,বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফি আলম,উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মনির,যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পৌর যুবদলের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন জজ,উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাসেল,সাধারণ সম্পাদক জুবাইদুল ইসলাম শামীম,সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম,কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জীবনসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন