পাট পাতার চা কারখানা সরিষাবাড়ীতে !

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত শুক্রবার বিকালে সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝালুপাড়া এলাকায় পাট পাতা চা তৈরি কারখানার  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম । ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  দ্রুতই চা শিল্পে যোগ হচ্ছে পাটের পাতার চা। এতে পাট ও চা শিল্প সমৃদ্ধ হবে। এ এলাকার বহু মানুষের বাড়তি কর্মসংস্থান হবে। পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে পাটকে নানাভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসছে নতুন উদ্ভাবিত এই সবুজ চা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাটকল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, পাটের পাতা থেকে পানীয় উৎপাদন প্রকল্পের উপদেষ্টা ইসমাইল খান, সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম রিমেল, পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন সহ অনেকে  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে  বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন তারা পাটের পাতা থেকে চা উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন । বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: নাসিমুল গনি  বিবিসিকে জানিয়েছিলেন ৯৩/৯৪ সালের দিকে তারা এটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ দিনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা হয়েছে পাট পাতার গুনাগুন এবং সেটা চা হিসেবে পান করার সময় যথাযথ থাকে কি-না এসব নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা। পাটের পাতা থেকে চা বানানোর প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে মিস্টার গনি জানিয়েছিলেন ফুল আসার আগেই পাট গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করতে হবে। পরে সে পাতা সূর্যের আলোতে শুকোতে সাইজ মতো গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর মধু বা চিনি দিয়ে এ চা পান করা যাবে। আবার এগুলো ছাড়াও পান করা যাবে। পাট শাকের সব ভেষজ গুনাগুণও পাট পাতা থেকে তৈরি হওয়া চায়েও থাকবে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মাইনুল হক জানিয়ে ছিলেন, তোষা পাটের পাতা থেকে তৈরি করা চা সুস্বাদু হবে কিন্তু দুধ মিশিয়ে এ চা খাওয়া যাবেনা। তার মতে এটি গ্রিন টির বিকল্প হবে এবং গুনাগুণের কারণেই এটি দ্রুতই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।

সরিষাবাড়ীতে এক কোটি ১৬ লাখ টাকায় এই কারখানার নির্মাণকাজ চলছে বলে পাট করপোরেশনের পাটপাতার পানীয় প্রকল্পের উপদেষ্টা ইসমাইল খান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাটপাতার চা শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে।”

ইসমাইল হোসেন বলেন, “চলতি বছরের শেষ দিকে কারখানা নির্মাণকাজ শেষ হলে সবুজ চা উৎপাদন শুরু হবে। চলতি মৌসুমে চাষ করা পাটের পাতা সংগ্রহ করে প্রক্রিয়া করে চা উৎপাদন করা হবে। পাটপাতা থেকে উৎপাদিত চা সবুজ চায়ের মতো স্বাদের হবে।

“এই চা খেলে ডায়াবেটিক ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। হ্রাস পাবে শরীরের ফ্যাট। এছাড়া নানা ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে এই চা। পাটপাতার চা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালানো হচ্ছে। চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের বাজারে এই চা পাওয়া যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 2 =