প্রথম আলো: দেওয়ানগঞ্জে সন্ধ্যা নামলেই হাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে মানুষ

প্রথম আলো জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় তিনটি গ্রামে ছয় দিন ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে ভারত থেকে নেমে আসা বন্য হাতির পাল। হাতির দল গম, ধানের বীজতলা, সরষে ও মসুর ডালের খেত নষ্ট করছে। হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রাতভর মশাল জ্বালিয়ে হইহুল্লোড় করে হাতির পাল তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হাতিগুলো এ পর্যন্ত প্রায় দুই শ বিঘা জমির ফসল নষ্ট করেছে।

ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ মো. মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত চার দিনে তিনটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই গ্রামে ঢুকে ফসলের বিভিন্ন খেত নষ্ট করছে। গত বুধবার সকালে তিনটি গ্রামের শতাধিক মানুষ আমার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে হাতির আক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি। প্রাথমিকভাবে হাতি তাড়াতে টর্চলাইট ও তিনটি জেনারেটর দেওয়া হলে ভালো হতো।’

দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, হাতির দল আলো দেখলে চলে যায়। তাই ওই সব গ্রামে জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সব গ্রামে জেনারেটর দেওয়া হবে। ইউপি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হলে তাঁদের সাহায্যের ব্যবস্থাও করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বালুঘাট পাহাড় থেকে ৩০-৪০টি হাতি ডাংধরা ইউনিয়নের মাখনের চর, বাঘার চর ও কুমারপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। এরপর থেকে টানা প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই হাতির পাল এসব গ্রামে ঢুকে গম, ধানের বীজতলা, সরষে ও মসুর ডালের খেত নষ্ট করছে। গত মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি হাতি মাখনের চর গ্রামের কানছের আলীর দুটি বসতঘর তছনছ করে। ডাংধরা ইউনিয়নের প্রায় চার–পাঁচ কিলোমিটারে হাতিগুলো বিচরণ করছে।

মাখনের চর গ্রামের আলামিন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত চার-পাঁচ মাস গ্রামে হাতির তাণ্ডব ছিল না। হঠাৎ শনিবার থেকে হাতি আক্রমণ চালাচ্ছে। হাতির পাল আমার পাঁচ বিঘা জমির ওপর আমবাগানের গাছ উপড়ে ফেলেছে। প্রতিদিনই কারও না কারও ক্ষতি করছে। গ্রামবাসী একত্র হয়ে মশাল জ্বালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছে। হাতির পাল সারা রাত তাণ্ডব চালিয়ে ভোরবেলায় পাহাড়ে চলে যাচ্ছে।’

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 1 =