ঢাকা-জামালপুর ট্রেন এক অসহনীয় দুর্ভোগের নাম

কর্তৃপক্ষের ক্রমাগত অবহেলা আর নজরদারির অভাবে ঢাকা-জামালপুর ট্রেন এক এখন অসহনীয় দুর্ভোগের নাম। যাচ্ছেতাই যাত্রীসেবা, টিকিট কালোবাজারি, অপ্রতুল ট্রেন ইত্যাদি সমস্যা এখন প্রচন্ডভাবে প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রুটের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা ও ব্রক্ষপুত্র এবং সরিষাবাড়ি পর্যন্ত অগ্নিবীণা ও যমুনা নামে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে । এছাড়া কয়েকটি বেসরকারি কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু এই ট্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা প্রয়োজনের চেয়ে একেবারেই অপ্রতুল। কোন ভাল বাস সার্ভিস বা অন্য বিকল্প না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষ প্রচন্ড ভীড়, বাড়তি মুল্যে টিকিট এবং সীট বিহীন দাঁড়িয়ে, ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ট্রেনের ছাদে অনিরাপত্তার মধ্যেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে । একজন উদ্ধতন রেলকর্মকর্তা জানান আন্তঃনগর ট্রেনে সীট সংখ্যা প্রায় ৭০০ এর মতো । আর প্রায় দেড় হাজার সীটবিহীন টিকেট বিক্রি হয়। প্রচচ্ড ভীড় সামলে ট্রেনে উঠা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ায় বিশেষ করে বয়ষ্ক এবং নারী রেলভ্রমনকারীদের ক্ষেত্রে। পুরুষ যাত্রীরা কোনমতে দাড়িয়ে যেতে পারলেও নারী যাত্রীদের জন্য তা প্রচন্ড রকমের কষ্টসাধ্য বিষয়। এতে শ্লীলতাহানির শিকার হন অসংখ্যা নারী। এমনকি ট্রেনের সীট পেলেও সে পর্যন্ত যেতেই নারী যাত্রীদের নানা রকম দুর্ভোগে পড়তে হয়।ঈদ এবং অন্যান্য ছুটির সময়গুলোতে এই সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারন করে যে এই সময়টাতে ট্রেন ভ্রমনের কথা চিন্তাই করা যায়না। ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদের সময় ট্রেনের বাথরুমে পর্যন্ত ৭/৮ জন মানুষ গাদাগাদি করে ‍উঠে মানবেতর ভ্রমন করতে বাধ্য হয়। যাত্রী সংখ্যার বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে যেখানে ট্রেন সেবা দ্রুত উন্নত হওয়ার কথা সেখানে উল্টো দুর্ভোগের শিকার এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি আজো। এই অঞ্চলের সকল মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই রুটে অন্তত আরো দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =