গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে অশ্লীল প্রস্তাবের অভিযোগ

বিবিসি: অভিনেতা ও পরিচালকদের সংগঠনের নেতা গাজী রাকায়েত-এর বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ও অশ্লীল প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন একজন নারী (এখানে তার নামটি প্রকাশ করা হচ্ছে না)। ওই নারী গাজী রাকায়েতের সাথে মেসেঞ্জারের কথোপকথনের কথিত স্ক্রিনশটও একটি ক্লোজ গ্রুপে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ কদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘ এবং টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন – বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পুলিশের ‘সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশন’-এর মোঃ আলিমুজ্জামান বিবিসিকে বলেন, “একজন নারী অভিযোগ করেছেন যে গাজী রাকায়েত মেসেঞ্জারে তাকে অশ্লীল প্রস্তাব দিয়েছেন।”

এখন পুলিশ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যে ফেসবুক আইডি থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে – সেটি মিলিয়ে দেখছে। এদিকে ওই নারী শ্যামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে গাজী রাকায়েত-এর সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মার্চের ৬ তারিখে তার ফেসবুক পাতায় একটি পোস্ট দেয়া হয় যেখানে বলা হয়, “আমার দুটো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে….আমার Id ব্যবহার করে messenger অনেকদিন Misuse (অপব্যবহার) হচ্ছিল….শেষ পর্যন্ত id বন্ধ করা হয়েছে….প্রচার প্রসার বাড়াতে গিয়ে একি বিপদ!!!!.facebook বন্ধ করে দেব কিনা ভাবচ্ছি!!!!!”

গাজী রাকায়েত পরিচালকদের যে সংগঠনের সভাপতি সেই ডিরেক্টরস গিল্ড এর সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীক।

তিনি এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “ব্যাপারটি নিয়ে যখন অভিযোগ আসে আমরা তা গুরুত্বের সাথে দেখি। স্ক্রিনশটটি যখন ভাইরাল করা হয় আমাদেরও নজরে আসে। তখন আমরা বোঝার চেষ্টা করি যে এটা আসলেই তার নিজের পাঠানো নাকি অন্য কারো করা? যে মেয়েটির সাথে ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য এটি অবশ্যই দু:খজনক। এ ধরনের কাজ যে-ই করুক না কেন সেটি শোভন নয়। কে আসলে মেসেঞ্জারে সেগুলো লিখেছে বা কোন নারীকে লিখেছে সেটি আমরা জানিনা তখনো। যে মেয়েটি এ বিষয়ে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছিল তাকে আমরা ডাকি এবং কথা বলি। তিনি জানান তার বান্ধবীর সাথে এটি ঘটেছে। কিন্তু যার সাথে এটি ঘটেছে তার সাথে কিন্তু যোগাযোগ করিয়ে দিতে অনুরোধ করলে তিনি তাতে রাজি হননি। ”

এস এ হক অলীক আরও জানালেন, মি: রাকায়েতের আইডিটি হ্যাক করা হয়েছিল। এরপর তারা তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন এমন একজন ব্যক্তির সহায়তা নেন। “আমরা তানভীর জোহা নামে একজনের সহায়তা চায় চাই এবং তিনি জানান গাজী রাকায়েতের ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছিল। এরপর আমরা ফেসবুক লাইভে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিই।”

মেসেঞ্জারে ব্যক্তিগত গোপন আলাপ স্ক্রিনশট হিসেবে ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন মি: রাকায়েত। বিষয়টি তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বলে জানান তার সহকর্মী এস এ হক অলীক।

মি: অলীক জানান, গাজী রাকায়েত এ বিষয়ে আদাবর থানায় জিডি করেছেন এবং অভিযোগে নিজের আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি এবং সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এদিকে সামাজিক মাধ্যম এবং কিছু অনলাইনের খবরে বলা হয়, বছর-খানেক আগে মি: রাকায়েতের সাথে ওই নারীর ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয়।

বর্তমানে অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত কথোপকথনের জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি অনলাইন মাধ্যম হয়ে উঠেছে মেসেঞ্জার। তবে স্ক্রিনশট ফাঁস করে সেলিব্রেটিদের মধ্যে শুধু গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধেই যে এ ধরনের অভিযোগ উঠলো তেমনটি নয়।

এর আগে কথিত স্ক্রিনশটের মাধ্যমে একজন লেখক ও চিত্রগাহকের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথোপকথনের ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসে। এরপর একজন আলোচিত তরুণ ইউটিউবার-এর সাথে মেসেঞ্জারে চালানো ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁস করেন তারই একজন বান্ধবী।

———————————————————————————

অপরদিকে অভিযোগকারী   গত ১১ মার্চ  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে জানান,

‘ফেসবুকে অশোভন প্রস্তাব দেয়া’ পোস্টটি কেন ‘হাইড’ করলাম…

মাঝরাতে একজন নারীকে ফেসবুকে অশোভন প্রস্তাব দেয়া নিয়ে সম্প্রতি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। অভিযুক্ত ফেসবুক আইডিটি ছিল একজন বরেণ্য অভিনেতা-নির্মাতার। অভিযুক্ত নির্মাতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, ‘তাঁর অভিযুক্ত ফেসবুক আইডিটি হ্যাক হয়েছে।’

এরপরপরই টেলিভিশন নাট্য নির্মাতাদের সংগঠন থেকে নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ফেসবুকে/ফোনে এবং পরিচিতজনের মাধ্যমে আইডিটি হ্যাক হয়েছে জানিয়ে আমাকে পোস্টটি মুছে ফেলতে বলেন। আমি তাঁদের জানাই, ফেসবুক হ্যাক হয়েছে কী না এটা সহজেই জানা যায় এবং কী কী ভাবে জানা যায় সেটা জানিয়ে তাঁদের ‘হ্যাক’ দাবিটিকে প্রমাণ করতে বলি। তখন তারা ‘হ্যাক’ বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে জানান, অভিযুক্তের ফেসবুক আইডিটি তাঁর কয়েকজন সহকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাঁদের কেউ এটা করে থাকতে পারে। আমি তাদেরকে জানাই যে-ই করে থাকুক তাকে চিহ্নিত না করে পোস্টটি মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘ এবং টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- এই তিনটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিরেক্টরস গিল্ড-এর সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক আমাকে আমন্ত্রণ জানান।

শনিবার বিকেল ৪ টায় আমি আমার দুই বন্ধুসহ তাঁদের নিকেতনের অফিসে যাই। ওখানে এস এ হক অলিক ছাড়াও আহসান হাবিব নাসিম, তানভিন সুইটি, রওনক হাসান, হৃদি হক প্রমুখ আমাদের সাথে কথা বলেন। তারা জানান, ঘটনাটি তারা তদন্ত করছেন এবং তদন্ত চলাকালীন তারা ফেসবুক পোস্টটি ‘হাইড’ করে রাখার অনুরোধ করেন।

তিনটি সংগঠনের প্রতি সম্মান রেখে পোস্টটি আপাতত ‘হাইড’ করে রাখলাম। তদন্তের জন্য তাদের একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সেই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন বলে আশা করছি। তাঁদের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করা হল, সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এই সম্মান-এর অমর্যাদা করবেন না- এটা আশা করছি।

 

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − sixteen =