দেওয়ানগঞ্জে হত্যাকান্ড: নিহতের মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ

যুগান্তর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ একেএম মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক জিএস ও বর্তমানে যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

হত্যার পর খালেকের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে নাজমুজ শোভা রাখি মনিকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

নিহতের স্ত্রী তারজিনা আক্তার লাকি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

নিহত আব্দুল খালেকের স্ত্রী তারজিনা আক্তার লাকি শনিবার দুপুরে জামালপুর শহরের একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সঙ্গে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরোধ চলে আসছে।

এই বিরোধের জেরে আবুল কালাম আজাদের লোক সেলিম, রুবেল ও সুলতান গত বুধবার সন্ধ্যার পর জোরপূর্বক বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যার পর উল্টো নিহত খালেকের স্ত্রীর ছোট বোনের জামাই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সোলায়মান হোসেনসহ তার আত্মীয়স্বজনের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

ঘটনার পর আবুল কালাম আজাদের লোকজন খালেকের মেয়ে নাজমুজ শোভা রাখি মনিকে অপহরণ করেছে। স্বামী হত্যা ও মেয়ে অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন খালেকের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারজিনা আক্তার লাকি। সংবাদ সম্মেলনে নিহত খালেকের শিশু ছেলে খালিদ বিন বিজয় উপস্থিত ছিল।

এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আব্দুল খালেকের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ ছিল না। তার মেয়েকে অপহরণ করার ঘটনা সঠিক না। আব্দুল খালেক আমার সমর্থক ছিলেন এবং নৌকা প্রতীকের নির্বাচন করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাতিজা মুসলিম উদ্দীন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আব্দুল খালেকের মেয়ে তার ফুফুর বাড়িতে রয়েছেন। পুলিশ ও পৌরসভার মেয়র এ ঘটনা জানেন।

দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি একেএম আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের মেয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে তার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছেন। খালেকের স্ত্রী থানায় মামলা নিয়ে যাননি বলেও জানান ওসি।

ওসি বলেন, অপহরণের ঘটনা সঠিক নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে চোকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বসে খাবার খাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আব্দুল খালেক।

এ ঘটনায় পরদিন তার ভাতিজা গুলিবিদ্ধ মুসলিম উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সোলায়মান হোসেন, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরনবী অপু ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিরুজ্জামান রাখালসহ ৩১ জনকে।

নিহত যুবলীগ নেতা আবুল খালেকের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ি এলাকায়।

তথ্যসূত্র ও ছবি: দৈনিক যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 13 =