মাদারগঞ্জে উদ্বিগ্ন ৫০ হাজার মানুষ: বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেই- প্রথম আলো

প্রথম আলো: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার নাদাগাড়ী গ্রামে সাত মাস আগে ধসে যাওয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি এখনো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় লোকজন বলেছেন, বাঁধটি মেরামত করা না হলে আসন্ন বর্ষায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত সোমবার বালীজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধটির প্রায় ৫০০ মিটার ভেঙে ডোবার সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধের দুই পাশের বড় বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে রয়েছে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ২০০৪ সালে নাদাগাড়ী গ্রামে সাড়ে তিন কিলোমিটার একটি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। এরপর গত ১৪ বছরে বাঁধটির আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। গত বছরের আগস্ট মাসের বন্যায় পানির স্রোতে মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিনের বাড়ি থেকে দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৫০০ মিটার ধসে যায়। এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বালীজুড়ী ও সিধুলি ইউনিয়নের সব গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বালীজুড়ী ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নছর মণ্ডল বলেন, বাঁধের পশ্চিম পাশে তাঁর চারটি ঘর ছিল। গত বন্যায় একমুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে পুরো গ্রাম তলিয়ে যায়। ওই সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ঘর পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায়। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। বাঁধটির প্রায় ৫০০ মিটার ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, সাত মাস ধরে রাজনৈতিক নেতা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় লোকজন বাঁধটি মেরামত করে দিতে আবেদন করেছেন। তাঁরা সবাই শুধু আশ্বাস দেন। কিন্তু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেন না।
বন্যার আগে বাঁধটি মেরামত করা না হলে ইউনিয়নবাসীর অনেক ক্ষতি হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া না হলে
স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রিনা আক্তার বলেন, বাঁধটি ভেঙে তাঁর তিনটি ঘরসহ সব আসবাব মুহূর্তেই পানিতে ভেসে যায়। সেই সময় তিনি ঘর থেকে দুটি ছাগল ও একটি গরু ছাড়া কিছুই সঙ্গে নিতে পারেনি। বসতভিটার মাটি পর্যন্ত পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। সাত মাস ধরে তিনি ওই জায়গায় একটি ছাপরা তুলে বসবাস করছেন। বাঁধটি মেরামত না হলে আগামী বর্ষায় কী হবে তা ভেবে পান না।
বালীজুড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. রাজু বলেন, বাঁধটি সংস্কার না করা হলে বাঁধের বাকি অংশও হুমকিতে পড়তে পারে। বাকি অংশ ভেঙে গেলে মাদারগঞ্জ শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, বাঁধটি মেরামতের দাবি সবার। বাঁধটি মেরামত করা না হলে হাজার হাজার মানুষকে পথে বসতে হবে। একটি রাজনৈতিক সমাবেশে তাঁর ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমকে বাঁধটি মেরামতের দাবি জানান। তিনি বাঁধটি মেরামতের আশ্বাস দেন এবং পাউবোর কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পাঠান। কিন্তু এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, বাঁধের ভাঙা অংশটি সরেজমিনে দেখা হয়েছে। বাঁধটি মেরামতের জন্য সম্প্রতি ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় মেরামতকাজ করা যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটির মেরামতকাজ শুরু না হলে আগামী বন্যায় গতবারের চেয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। অল্প বন্যাতেও মাদারগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 3 =