সরিষাবাড়ীতে ৩৮ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, পাঠদান ব্যাহত

প্রথম আলো: মুল লেখার লিংক : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ১২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। এসব পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানসহ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও বিদ্যালয়গুলো সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ১২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

প্রধান শিক্ষক শূন্য বিদ্যালয়গুলোর মধে৵ পোগলদিঘা ইউনিয়নে আছে ৩টি, পিংনা ইউনিয়নে ৪টি, আওনায় ৯টি, ডোয়াইলে ৫টি, ভাটারায় ৩টি, মহাদানে ৪টি, সাতপোয়ায় ৩টি, কামরাবাদে ৫টি ও পৌরসভায় ২টি।

আওনা ইউনিয়নে প্রধান শিক্ষক শূন্য তরণী আটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হামিদ বলেন, ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্মসহ দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ রকম আরেক বিদ্যালয় তরণী আটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গেলে আমাকে পাঁচটি ক্লাস একা নিতে হয়।’

পোগলদিঘা ইউনিয়নের মালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোবায়েত হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতপোয়া ইউনিয়নের মানিকপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদলি হয়ে যাওয়ায় আমাকে পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সব কাজকর্ম করতে হচ্ছে।’

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি মাসে অধিদপ্তরকে শূন্য পদের তালিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, দীর্ঘদিন ধরে জেলার ১২৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অধিদপ্তরে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কাজ হয়নি।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 2 =