নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচিত হলে শেখ হাসিনাকেও মানবো: খালেদা জিয়া

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আগামীতে নির্বাচিত হন তাহলে শেখ হাসিনাকেও মানতে আপত্তি নাই—বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।জানিয়েছে বাংল ট্রিবিউন। অনলাইন টি জানায়,   খালেদা জিয়া বলেন, জনগণ যাদের চাইবে তাদের নিয়েই কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের মহিলা এমপিরা বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই না, আমরা হাসিনাকে ক্ষমতায় চাই’। কত আবদার দেখেন। কী রকম অবস্থায় তারা দেশকে নিয়ে যেতে চায়!
শনিবার রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি-জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনা মার্কা নির্বাচন আর এদেশে চলবে না। এদেশের কোনও মানুষ হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় না, হাসিনা মার্কা নির্বাচন চায় না, চলবে না।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষ, মা-বোনসহ সব সেক্টরের মানুষকে এজন্য এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটাকে, জালিমদের হাত থেকে, লুটেরাদের  হাত থেকে রক্ষার জন্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রোজার ঈদ শেষ হয়ে গেলেই জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ জুলুম, অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এদের (সরকার) অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রতিনিয়ত দেশের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে, কমছে না। আজকে গরীব মানুষ দু-’বেলা পেট ভরে খেতেও পায় না। এর মধ্যেই গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মানুষ আজকে সত্যিকারে শান্তিতে বাঁচার মতো অবস্থায় নেই। সে জন্য দেশের মানুষ চায় শান্তি। মানুষ চায় দেশে উন্নতি এবং অগ্রগতি। কিন্তু এখানে দেশের কোনও উন্নতি নেই। আছে শুধু একটা দলের উন্নতি। তাদের কোনও কিছুতে সমস্যা নেই। তারা মহা আনন্দে আছে এবং তারা এভাবেই থাকতে চায়।
‘এখনও খুন, গুম, নারী নির্যাতন চলছেই। এই সরকার কিছুই করতে পারেনি। তাই আজকে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে। রোজার পরে হয়তো মানুষ নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হবে’- বলে জানান তিনি।
সরকারের বাজেটের সমালোচনা করে বিএনপি নেত্রী বলেন, সরকার যে বাজেট দিয়েছে সেটি গরিব মারার বাজেট। এই বাজেটে আরও নতুন নতুন শুল্ক কর বসানো হয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকে ১ লাখ টাকা রাখলেই ৮০০ টাকা কেটে নেবে। কিন্ত যারা এসব করছে তাদের টাকা তো আর এদেশে নেই। তাদের টাকা সব দেশের বাইরে। তাদের টাকা তো আর কাটা যাবে না। যাবে সাধারণ মানুষের টাকা।
বিএনপি প্রধান বলেন,  ‘প্রতিটি মানুষের উচিত যারা যেখানে আছে, আলোচনা করা, সেখানে বসে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া  যে এই অবস্থায় কি দেশ চলবে? আমরা এই অবস্থাতেই শুধু হা-হুতাশ করবো? আমরা কি না খেয়ে মরবো?’
ইফতারে বিএনপি ও জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *