দেওয়ানগঞ্জে দুস্থের চাল বাজারে : তদন্ত না করে থাপথুপ

কালের কন্ঠ: মুল লেখার লিংক : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নে ভিজিডির চাল বাজারে বেচার তদন্ত না করে থাপথুপ (চাপা) দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

গত আগস্টে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওতায় ভিজিডি সুবিধাভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১১০ জন দুস্থকে চাল দেওয়া হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. মাসুদ ওই চাল আত্মসাৎ করেন।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তালিকা ধরে দুস্থদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে গত ১০ আগস্ট কালের কণ্ঠ ‘চেয়ারম্যানের কূটচাল, বাজারে দুস্থের চাল!’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভিযোগের তদন্ত না করে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার তত্পরতা শুরু করে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে তদারকি কর্মকর্তা (দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) ওসমান গনি গত ৩ অক্টোবর পরিষদ থেকে জুলাই-আগস্টের চাল বিতরণ শুরু করেন। এ সময় ১১০ দুস্থের মধ্যে ৭০ জনকে ম্যানেজ করেন চেয়ারম্যান ও তদারকি কর্মকর্তা। তাঁদের দুই মাসের চাল না দিয়ে ছয় মাসের প্রাপ্তি স্বাক্ষর/টিপসই নেন ভিজিডি কার্ডে। বাকি ৪০ দুস্থ আট মাসের প্রাপ্য দাবি করেন। এ অবস্থায় তাঁদের হাতে ভিজিডি কার্ড আর বরাদ্দ চাল কোনোটাই দেওয়া হয়নি।

জোয়ানের চর মুন্সিপাড়া গ্রামের বিলকিস খাতুন বলেন, ‘সরকার আমার নামে চাইল দিছে।

চেয়ারম্যান কার্ডও দেয় না, চাইলও দেয় না। আমার নামের চাইল চাওয়া কি অন্যায় অইছে? আমগর চাইল চেয়ারম্যান চুরি কইরা খাইছে। এই উচিত কতা কবার গেছি দেইখ্যা চেয়ারম্যান নাম কাইটা দিব বলে কইছে। ’

একই গ্রামের বিদ্যা খাতুনের অভিযোগ, ‘ছয় মাসের চাইলের খবর নাই। খালি দুই মাসের চাইল হাদে। আমরা নেই নাই। চাইল দিলে ছয় মাসের ধইরাও দেওয়া নাগবো। ’ মাখনের চরের শাহনাজ বেগম বলেন, ‘দুনিয়াত কোনো বিচারআচার নাই। আমগর মতো গরিব মাইনসের চাল চুরি কইরা খাইল চেয়ারম্যান। ৪০ মাইল দূরে ইউএনওর কাছে গিয়া বিচার চাইছিলাম। তিনি কয়, তদন্ত কইরা ব্যবস্থা নিমু। কিন্তুক দিন যায়, মাস যায় ব্যবস্থা নেয় না। ’ একই ধরনের কথা বলেন ফেরদৌসি বেগম, রাজিয়া খাতুন, জাহানারা বেগম, সাজেদা বেগম, কাজল রেখা, বুলবুলি খাতুন, শাহিনা খাতুন, লিচু বেগম, মনোয়ারা খাতুন, সাজেদা খাতুন, মরিয়ম বেগম, নুরুন্নাহার, রাশেদা বেগম, সাফিয়া খাতুন, ফরিদা খাতুন, সবুরা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, জাহানারা বেগম, নার্গিস খাতুন ও হালিমা খাতুন।

ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এতগুলো দুস্থ পরিবারের ছয় মাসের চাল আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান। তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ করার পরও প্রশাসন চুপ করে বসে আছে। ’

স্কুলশিক্ষক মোরশেদ আলম বলেন, ‘দিনদুপুরে চুরি করার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। ’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন সরকার ও আব্দুর রশীদ ফটিক জানান, প্রশাসনের যাঁরা সুবিধা নিয়ে চেয়ারম্যানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ডাংধরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. মাসুদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত হচ্ছে। সব অভিযোগ মিথ্যা। যা সমস্যা ছিল, তা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। যারা চাল পায়নি তাদের এলাকায় মাইকিং করে ডাকা হয়েছে। ’

দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানকে সব দুস্থের নামের চাল দিতে বলেছি; কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেন না। আমি সেই হিসেবে প্রতিবেদন দিয়েছি ইউএনওর কাছে। ’

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুর-এ ফাতেমা বলেন, ‘আমি সবে যোগদান করেছি। অভিযোগ ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ’

দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে সব সমাধান করবেন। যদি না করতে পারেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘৪০ দুস্থ নারী আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি, যার নাম আছে সে চাল পাবে। ’

 

কালের কন্ঠ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =