ডাক্তারদের উপর মারটা আগে যায়,এটা কাম্য হতে পারে না : অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ

“আমি কোন দিন ভাবি নাই, কারণ আমি তো আসলে কোন ক্রিমিনাল কাজ করিও না বা করার চিন্তা ভাবনাও নাই। যে কেসটা আমার বিরুদ্ধে দেয়া হলো, এটা যে তারা দিবে আমি চিন্তাও করি নাই। রোগী যখন আসলো দেখে তখন যা মনে করলাম সে হিসেবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষার যখন রিপোর্ট আসলো তখন দেখলাম ব্লাড ক্যান্সার। এখানে আমার ডায়াগনোসিসও ভুল হয় নাই, তার প্রাথমিক যা চিকিৎসা সবগুলোই দিয়েছি। সে এত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল আসলেই কিছু করার ছিল না। পৃথিবীর কোথাও কেউ কিছু করতে পারতনা। তার অবস্থা খারাপ হবার পর সে আইসিইউতে যায়, আইসিইউতে যাওয়া মানেই রোগী ক্রিটিক্যালি ইল, সিরিয়াস, তখন কিছু করার থাকে না এবং আইসিইউতে যদি রোগী চব্বিশ ঘণ্টা না টিকে পৃথিবীর কোথাও কেউ কিছু করতে পারবে না। এতে আমাদের নেগলিগ্যান্সির কিছু নাই।

একটা অল্প বয়স্ক মেয়ে,
কোন ডাক্তার কি তাকে মারতে যাবে? আমি কি ইচ্ছাকৃতভাবে মারব তাকে? যে অভিযোগ করা হলো ক্যান্সারের ভুল চিকিৎসা দিয়ে মারা হয়েছে, এটাওতো কোন ক্রমে ঠিক নয়। রোগী আসলো সিরিয়াস, আমরা ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরুই করি নাই। আমরা ক্যান্সারের চিকিৎসা দিলাম কখন? ভুল চিকিৎসা কোথায় হলো?

এখন ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমি চাইবো এটার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্ত করে যদি শাস্তি হবার মত কিছু হয় তাহলে আমরা শাস্তি মাথায় পেতে নেব। কিন্তু এই ঘটনাগুলো বারবার ঘটবে, বিশেষ করে ডাক্তার সমাজ বা জুনিয়র ডাক্তার তাদের জন্য সবসময় এটা বিব্রতকর। আমি হয়ত একটা রোগী দেখে আসলাম আমার যারা সাব অর্ডিনেট বা এসিস্ট্যান্ট তারা তো থাকে। সবসময় কিন্তু গোলমাল হলে ঐ ডাক্তারদের উপর মারটা আগে যায়। এটা কোন সময় কাম্য হতে পারে না। ডাক্তারকে কেন মারবে? আইন আছে দেশে, দরকার পরলে কেস করতে পারে, কিন্তু মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়ে একটা লংকাকাণ্ড ঘটায় দিবে এবং হসপিটালে মারামারি করাতে ৭০-৮০ মানুষ মিলে একজন জুনিয়র ডাক্তারকে মারলো, পরিচালক কে মারলো, এটা তো কাম্য হতে পারে না।

এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা আমাদের যে আইনজ্ঞ যারা আছে তাদের সাথে কথা বলে সে অনুযায়ী করব”-জামিনের পর অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ স্যারের বক্তব্য।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =