জুলাই থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশন শেষে মধ্য জুলাই থেকে এ কার্যক্রম জোরেসোরে চলবে। খবর বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোরের ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন। এর মধ্যে থাকবে জনসভা, সমাবেশ, বর্ধিত সভা, কর্মিসভাসহ বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিতে দলকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নগুলো প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদের উন্নয়ন জনগণের মাঝে তুলে ধরতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জনসভা ও সমাবেশ করা হবে। তবে ইতোমধ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকটি জেলায় জনসভাও করেছেন।

সংসদের বাজেট অধিবেশন চলবে আগামী ০৯ জুলাই পর্যন্ত। দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য হওয়ায় ঢাকায় অবস্থান করছেন। অধিবেশন শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন।

দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্য জেলাগুলোতেও জনসভা, সমাবেশ করবেন। কোন কোন জেলায় প্রধানমন্ত্রী যাবেন, সেটি ঠিক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ কর্মসূচি তৈরি করছে।

তবে যেসব জেলায় বর্তমান সরকারের সময় যেতে পারেননি, সেসব জেলাকে অগ্রাধিকার দেবেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে বরাবরের মতো জনসভা-সমাবেশে অংশ নেবেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলীয় এমপিদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় তিনি বলেন, ‘একটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলা করে বিজয়ী হতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে এবং সেভাবেই দলকে তৈরি করতে হবে’।

এমপিদেরকে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও কোনো কোন্দল থাকলে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলাসহ সরকারের উন্নয়ন ও সফলতাগুলো জনগনের সামনে ভালোভাবে তুলে ধরারও নির্দেশ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সারা দেশেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মিসভা, বর্ধিত সভা, জনসভা ও সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা করার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশনের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি চলবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সাংগঠনিক কাজও চলছে। পাশাপাশি সরকারের যে উন্নয়ন, সাফল্যগুলো রয়েছে- সেগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে প্রচারণামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের পর এসব কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশের পর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে জোরদার করতে কর্মিসভা, বর্ধিত সভা করছি। জনগণের সামনে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে ধারাবাহিক জনসভা-সমাবেশের কর্মসূচিও নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন জেলার জনসভায় অংশ নেবেন’।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − twelve =