জাতীয় কবির জন্মদিন

নয়ন আসাদ ।।

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন তিনি। 

মানুষের অধিকার, ন্যায্যতা ও সমতার কথা তিনি তার কলমে ধারণ করে হয়ে উঠেছিলেন বাংলা অঞ্চলের সব মানুষের প্রিয় কবিতে। তিনি তার লেখায় প্রেম, দ্রোহ, কোমলতা, কঠোরতা সব কিছুই ধারণ করেছিলেন অনন্য প্রতিভায়। শাসক শ্রেণীর শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তার কলম। সোচ্চার ছিল ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে। বাংলা সাহিত্যে তিনি তারুণ্যের প্রতীক। এক রহস্যময় বিদ্রোহী চরিত্র। তিনি দৃঢ় কন্ঠে যেমন সত্য উচ্চারণ করেছেন তেমনি থেকেছেন আপসহীন। কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন কিন্তু সত্য বলতে পিছপা হননি কখনো।

তিনি সব ধরনের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে, চাটুকারিতা আর পা-চাটার বিরুদ্ধে তিনি বলতে শিখিয়েছিলেন, বল উন্নত মম শীর। বলেছিলেন, মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি আমি সেই দিন হব শান্ত!

শোষকদের উদ্দেশ্যে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!

কাজী নজরুল ইসলাম কথা বলেছিলেন মানুষের জন্য। সাহিত্য মানে শুধু মনোরঞ্জন নয় বরং সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র, শোষনের বিরুদ্ধে একটি শাণিত হাতিয়ার তা বাংলা সাহিত্যে দেখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। আর একারণেই তিনি একটি জাতির আশা-আকাঙ্খা ধারণ করে সকল দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে উঠেছিলেন গণমানুষের কবি। যুগ যুগ ধরে তার কবিতা লড়াই করবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অন্যায্যতার বিরুদ্ধে। সাহস যোগাবে নিপীড়িত মানুষকে। সুর তুলবে সাম্যের, কবি যে ভাষায় বলেছিলেন,

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

কবি নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তবে মানুষ ভালোবেসেছিল তাকে। তিনিও হয়তো তা জানতেন, আর তাইতো হারিয়ে যাওয়ার আগে বলেছিলেন,

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *