জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাঘাট

সমকাল: মুল লেখার লিংক : বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ২৩ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বকশীগঞ্জ পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এর পর থেকে নিয়মিত পৌরকর ও টোল আদায় করে আসছে পৌর প্রশাসন। কিন্তু পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডুবে যায় পৌরসভার জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মধ্যবাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড, বাসস্ট্যন্ড মোড় থেকে মালিবাগ মোড়, উপজেলা মসজিদ থেকে টিঅ্যান্ডটি রোড, মধ্যবাজার থেকে পুরাতন গোহাটি ও পাটহাটি থেকে উপজেলা পর্যন্ত রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা ও কাদাযুক্ত ময়লা-আবর্জনার কারণে কাঁচাবাজারের বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এতে বেচাকেনা কম থাকায় কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও মুরগির বাজারের ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া পৌর শহরে অবস্থিত এনএম হাইস্কুল, সরকারি কেইউ কলেজ, খয়ের উদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরের সর্বত্র নেই নৈশবাতি। যেগুলো আছে কখনও জ্বলে আবার জ্বলে না। চলাচলের জন্য ফুটপাত নেই, যেটুকু আছে তাও দখল করে নিয়েছে চটি দোকান, টং দোকান, চা দোকানসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক,

রিকশা ও ভ্যান চালকরা। এতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই পৌরবাসীর।  বাজারের দোকানদার আমজাদ আলী, আলাল মিয়া ও মাসুম মিয়া বলেন, আমরা নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও পৌর প্রশাসন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান।

এনএম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুমুল হক সিদ্দিকী বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি জমে নর্দমার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে পারেন না।

বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ লায়ন বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। পৌরকর পরিশোধ করেও নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।

এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক রায়হান আহাম্মেদ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেন নির্মাণ করে জলাবদ্ধতার নিরসন করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জরাজীর্ণ রাস্তাগুলো মেরামত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ইউএনও আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, স্থানীয় এমপির সঙ্গে আলোচনা করে একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে জলাবদ্ধতার অবসান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + 15 =