ইসলামপুর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু

প্রথম আলো:  জামালপুরের ইসলামপুর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ওই পৌরসভায় চাকরি করার সময় সচিব মেহেরুন নেছাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গত মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার গোপন দরপত্রে স্বাক্ষর না দেওয়ায় ওই সচিবকে লাঞ্ছিত করেন বলে ইসলামপুরের মেয়র আবদুল কাদের শেখের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ নভেম্বর মেহেরুন নেছা সচিব হিসেবে ইসলামপুর পৌরসভায় যোগ দেন। এরপর থেকেই পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের বিভিন্ন ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষরের জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এ বছরের ১৯ জানুয়ারিতে পৌরসভার মার্কেট ও কয়েকটি রাস্তা নির্মাণের জন্য গোপনে প্রায় ২ কোটি টাকার দুটি দরপত্র ডাকা হয়। ওই গোপন দরপত্রে তাঁকে (সচিব) স্বাক্ষর করতে চাপ সৃষ্টি করেন মেয়র। কিন্তু স্বাক্ষর না করায় মেয়র আবদুল কাদের তাঁকে গালিগালাজ করাসহ শাস্তিমূলকভাবে বান্দরবানে বদলির হুমকি দেন। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে গত ১৬ মার্চ সচিব মেহেরুন নেছা ইসলামপুর থেকে বদলি নিয়ে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর পৌরসভায় চলে আসেন।

গত ২২ জানুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মেয়র আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর (সচিব) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাসেল। প্রথম দিন অভিযোগকারী সচিবের কাছ থেকে লিখিত এবং মৌখিক সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পৌরসভার প্যানেল মেয়র অংকন কর্মকারসহ কয়েকজন পৌর কর্মচারীও এদিন লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বর্তমানে ভুয়াপুর পৌরসভায় সচিব মেহেরুন নেছা বলেন, ‘পৌরসভায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সিদ্ধান্ত চলে না। মেয়র আবদুল কাদেরের কথাই শেষ কথা। মঙ্গলবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডেকে ছিলেন। তাঁর কাছে সব ধরনের সাক্ষ্য দিয়ে এসেছি।’

ইসলামপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র জাকিউর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাদের পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তিনি (মেয়র) নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজে পৌরসভার কোনো সদস্যকে ডাকেন না। বিভিন্ন সময় কাউন্সিলরদের ডেকে সাদা রেজল্যুশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে তাঁর ইচ্ছেমতো ওই খাতায় লিখে নেন। এভাবেই লাখ লাখ টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়ম করে আসছেন তিনি। অনেক সময় এসব কাজে বাধা দিতে গিয়ে মেয়রের ষড়ন্ত্রের শিকার তাঁকেও হতে হয়েছে বলে জানান প্যানেল মেয়র। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলররা প্রায়ই তাঁর কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। একইভাবে তিনি পৌরসভার সাবেক সচিব মেহেরুন নেছাকেও বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচার ও গোপন দরপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ সৃষ্টি করেন। মেয়রের ষড়ষন্ত্রের কারণে তিনি পৌরসভা ছাড়তে বাধ্য হন বলে জানান প্যানেল মেয়র জাকিউর।

এদিকে মেয়র আবদুল কাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ধরনের গোপন দরপত্রে স্বাক্ষর করতে ওই সচিবকে চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। ওই সচিব যোগদানের পর নিয়মিত অফিস করতেন না। এসব বলার কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’ কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সাদা রেজল্যুশন খাতায় স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলররা সাদা খাতায় স্বাক্ষর দেন কেন?’

তদন্ত কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘ওই সচিবের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্তকাজ চলছে। মঙ্গলবার অভিযোগকারী সচিব মেহেরুন নেছা লিখিত ও মৌখিকভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে মেয়র আবদুল কাদের অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর পৌরসভার একজন প্যানেল মেয়র ও কয়েকজন কর্মচারীও সাক্ষ্য দিয়েছেন।’ তবে গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়রের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সময় নির্ধারণ করা হলে তিনি তাঁর লিখিতভাবে নিজ বক্তব্য জমা দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে। সবার সাক্ষ্য গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *